ইরান যুদ্ধের মধ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস লিংকনের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। রণতরিটি কবে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি। এ অবস্থায় রণতরিতে থাকা নাবিক ও মেরিনদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং জীবনযাপনের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তাদের পরিবার।
মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে এসব বিষয়ে ২০০ পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে এমএস নাউ।
আরও পড়ুন
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন / টানা ২০০ দিন সমুদ্রে ভাসছে বিমানবাহী রণতরি, চাপে মার্কিন নৌবহর
শুক্রবার(৭ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের দিন বৃহস্পতিবার মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব সচিব হাং কাওয়ের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন প্রায় ২০০ পরিবারের সদস্য। সান দিয়েগোতে এই বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে। তারা প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিনকে বহনকারী রণতরিটির দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন এবং তাদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কর্মকর্তাদের কাছে জবাব চেয়েছেন।
এই বৈঠকে মেরিন সদস্যদের অতিরিক্ত ক্লান্তি, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার অভাব, খাবারের সংকট, পানিদূষণ, শৌচাগারের সমস্যা, নিরাপত্তা এবং ডাক সরবরাহে বিঘ্নসহ নানা বিষয় নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
হাং কাও জানান, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। পরবর্তীতে এই বাহিনী ইউএসএস লিংকনের দায়িত্ব নেবে। তবে, অপারেশনাল নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তিনি এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি।
এমএস নাও-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার(৮ আগস্ট) পর্যন্ত ইউএসএস লিংকন টানা ২৫৯ দিন মোতায়েনে ছিল। গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো ছাড়ার পর এই সময়ে এটি মাত্র দুবার বিরতি নিয়েছে। এর মধ্যে ৭ জুলাই ওমানে একটি সংক্ষিপ্ত সফর করেছিল বলে জানা গেছে। ফলে জাহাজটির নাবিক ও মেরিনরা টানা ২০৮ দিন সমুদ্রে ছিলেন।
নৌবাহিনীর ভাইস অ্যাডমিরাল জোসেফ কাহিল বলেন, নাবিক ও তাদের পরিবারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের চাপ সম্পর্কে নৌবাহিনী অবগত।পরিবার ও সামরিক সদস্যদের ওপর এর প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদে আমাদের বাহিনীর স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা ধরে রাখার বিষয়টি আমরা স্পষ্টভাবে শুনছি।
কর্মকর্তারা জানান, নৌ-সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা দিতে রণতরিতে মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কাউন্সিলর, ধর্মীয় উপদেষ্টা এবং ‘হিউম্যান ফ্যাক্টরস কাউন্সিল’ রয়েছে। এসব কাউন্সিল সামরিক সদস্যদের সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন ঝুঁকি শনাক্ত করতে কাজ করে।
এছাড়া, রণতরীতে জীবনযাপনের পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন পরিবারের সদস্যরা। তারা নষ্ট শৌচাগার এবং গোসলখানায় ছত্রাক থাকার সন্দেহের কথা জানান। নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা বলেন, একটি এলাকায় শৌচাগারে একগুঁয়ে ধরনের জট তৈরি হয়েছিল। আর গোসলখানায় যে ছত্রাক দেখা গেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, সেটি বায়ু চলাচলের সমস্যার কারণে সৃষ্ট স্যাঁতসেঁতে আস্তরণও হতে পারে।
তবে, খাদ্য, ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী ও ডাক সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটেছে। ভাইস অ্যাডমিরাল ডগলাস ভেরিসিমো জানান, বাহরাইনকেন্দ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সমস্যার কারণে যুদ্ধ শুরুর পর বড় ধরনের জট তৈরি হয়। ফলে নৌবাহিনীকে খাদ্য সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, সরবরাহ ও ডাক ব্যবস্থায় আমরা এখন আরও ভালো করছি। পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে; এখনও ভালো নয়, আর কিছু সময় এটি অত্যন্ত খারাপ ছিল। তবে, আমরা একটি দেশ হিসেবে যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।
অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া আরেক মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন (CVN 73) এবং এর সঙ্গে থাকা দুটি যুদ্ধজাহাজ এখন ভিয়েতনামে আছে। দ্য ডিপলোম্যাটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ দিনের সফরে গত ৩০ জুলাই ভিয়েতনামের দানাং বন্দরে পৌঁছেছে জর্জ ওয়াশিংটন।
ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ-৫ (CSG 5)-এর ফ্ল্যাগশিপ। এর সঙ্গে রয়েছে ক্যারিয়ার এয়ার উইং-৫ (CVW 5), টিকনডেরোগা শ্রেণির গাইডেড-মিসাইল ক্রুজার ইউএসএস রবার্ট স্মলস (CG 62) এবং আর্লেই বার্ক শ্রেণির গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস শুপ (DDG 86)।
মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দানাংয়ে এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনামের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বের প্রতীক। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অবাধ ও উন্মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিরও প্রতিফলন এই সফর।
কেএম







