সময়ের সেরা ফুটবলারদের তালিকায় কিলিয়ান এমবাপে ও লামিন ইয়ামাল নিশ্চিতভাবেই থাকবেন একদম উপরের দিকে। ফ্রান্সের ২৭ বছর বয়সী স্ট্রাইকার এমবাপ্পে ইতোমধ্যে পেয়েছেন বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ, স্পেনের ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার ইয়ামাল পরম আকাঙ্ক্ষিত এই শিরোপা থেকে রয়েছেন মাত্র এক ধাপ দূরে।ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এখন পর্যন্ত নকআউট  ম্যাচে ছয়বার মুখোমুখি হয়েছেন এমবাপ্পে ও ইয়ামাল। কোনোবারই জিততে পারেননি এমবাপ্পে। প্রতিবারই তার বিপক্ষে বিজয়ীর হাসি হেসেছেন ইয়ামাল। এর শেষটি এসেছে মঙ্গলবার রাতে ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে। ডালাসে অসাধারণ পারফরম্যান্সে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর ফাইনালে পা রেখেছে স্পেন। দলের মতোই এমবাপ্পে ছিলেন নিষ্প্রাণ, উজ্জ্বল থাকা ইয়ামাল পেনাল্টি আদায় করে নিয়ে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দুজনই নিজ নিজ দলের মূল অস্ত্র। তাদের প্রথমবার দেখা হয়েছিল ২০২৪ সালের ইউরোর সেমিফাইনালে। সেবার ফ্রান্সের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছিল স্পেন। দলের পক্ষে প্রথম গোলটি করেছিলেন ইয়ামাল। এরপর গত বছর  উয়েফা নেশন্স লিগের রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালে হয় গোলের উৎসব। তবে শেষমেশ ৫-৪ ব্যবধানে জয় লেখা হয় স্পেনের নামের পাশেই। সেদিন ইয়ামাল করেছিলেন জোড়া লক্ষ্যভেদ, একবার জাল খুঁজে নিয়েছিলেন এমবাপ্পে।গত বছর আরও দুবার ফুটবল মাঠে নকআউট ম্যাচে সাক্ষাৎ হয় তাদের। স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে ৫-২ গোলে এমবাপ্পের রেয়াল মাদ্রিদকে গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইয়ামালের বার্সেলোনা। দুজনই সেবার একবার করে নিশানা ভেদ করেছিলেন। তারপর কোপা দেল রের অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ফাইনালেও রেয়ালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরে বার্সা। ওই ম্যাচে এমবাপ্পে গোল পেলেও ইয়ামালের খাতা ছিল শূন্য।

গত জানুয়ারিতে ফের স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনাল ইয়ামাল ও এমবাপ্পেকে মুখোমুখি দাঁড় করায়। ৩-২ গোলে রেয়ালকে বার্সা পরাস্ত করলেও সেদিন গোল পাননি কেউই। সবশেষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দাপুটে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে এমবাপ্পের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে জয়ের সংখ্যাকে ছয়ে উন্নীত করেছেন ইয়ামাল। তবে ইয়ামালের মতো একজন তারকা একাই এমবাপ্পের মতো তারকাকে হারিয়ে দিচ্ছেন- এমনটা বলা হলে বিষয়টিকে খুব সরলীকরণ করা হয়। কারণ, ফুটবল কোনো ব্যক্তি বনাম ব্যক্তির খেলা নয়। তারপরও এই পরিসংখ্যান রীতিমতো বিস্ময় জাগানিয়া।