সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। রায় প্রকাশের পর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘মামলায় মোট আসামি ছিলেন আটজন। বিচারক বিচার বিশ্লেষণ করে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া তিনজনের যাবজীবন কারাদণ্ড এবং আরেক মামলায় একটা সেকশনে ১৪ বছরের সাজা দিয়েছেন। তাদের প্রত্যেককে আবার এক লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট।’
তিনি বলেন, ‘মামলায় বিচারক তিনজনকে খালাস দিয়েছেন। তবে আমরা বিচার বিশ্লেষণ করে রায় আরও ভালো করে পড়বো। যদি মনে করি খালাস পাওয়াদের বিষয়ে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রয়োজন আছে, তাহলে চিন্তাভাবনা করবো।’
এর আগে দুপুর ২টার দিকে আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার।
রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়ার তাহিদ মিয়ার ছেলে সাইফুর রহমান (২৮)। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনের মধ্যে রয়েছেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বাগুনীপাড়ার শাহ জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার উমেদনগরের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), জকিগঞ্জের আটগ্রামের মৃত অমলেন্দু লস্কর ওরফে কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৬)।
অন্যদিকে, বেকসুর খালাস পেয়েছেন চারজন। তারা হলেন, দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুরের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), কানাইঘাট উপজেলার লামা দলইকান্দির সালিক আহমদের ছেলে মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), সিলেট নগরীর গোলাপবাগ আবাসিক এলাকার মৃত সোনা মিয়ার ছেলে আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল (২৬) ও বিয়ানীবাজার উপজেলার নটেশ্বর গ্রামের মৃত ফয়জুল ইসলামের ছেলে মিজবাউল ইসলাম রাজন (২৭)।
আদালত সূত্র জানায়, গত বছরের মে মাসে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ২৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে গৃহবধূ, তার স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তি নেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক, ওসমানী হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক রয়েছেন।
আহমেদ জামিল/এএইচ








