চীনের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গাজীপুরে কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমি ও গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র এবং মিরসরাইয়ে জাতীয় কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া এসব তথ্য জানান। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বলেন, সফরের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল চীনের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ মডেল এবং এর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা নেওয়া। একই সঙ্গে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, আধুনিক কারিগরি গবেষণাগার ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সুবিধা স্থাপন এবং চীনা ভাষার সহায়তাসম্পন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের চীনে প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে কার্যরত চীনা শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও সফরে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি পর্যায়ের কার্যক্রমের কাঠামোর আওতায় চীনে বাংলাদেশ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সেবা কার্যালয় স্থাপন, সরকারি পর্যায়ে সমন্বয়, নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং চীন-বাংলাদেশ শিক্ষা বিনিময় সম্মেলন আয়োজনের বিষয়গুলো সামনে এসেছে।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নেতৃত্বে এ সফরে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন ও কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া।

সচিব বলেন, সফরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, যৌথভাবে মাস্টার্স ও ডক্টরাল প্রোগ্রাম চালু, শিক্ষক ও অনুষদ সদস্যদের বিনিময় এবং শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে। পাশাপাশি বাংলাদেশে চীনা ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন, চীনা ভাষার শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ এবং সরকারি সহায়তায় বৃত্তির সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে যৌথভাবে কারিকুলাম উন্নয়ন এবং দ্বিভাষিক শিক্ষা-উপকরণ প্রণয়ন ও ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা জোরদার এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের আধুনিকায়নের জন্য জাতীয় বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দাউদ মিয়া বলেন, সফরের অন্যতম প্রধান অর্জন হলো ‘তিয়াংগং’ জিয়াংসি কারিগরি শিক্ষা আন্তর্জাতিক জোটের সদস্যপদ অর্জন। এ ছাড়া চীন-বাংলাদেশ শিল্প-শিক্ষা সমন্বয় আন্তর্জাতিক সেবা কেন্দ্র, চীন-বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা গবেষণা কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ চীনা ভাষা ও কারিগরি শিক্ষা সহযোগিতা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে।

দাউদ মিয়া বলেন, সহযোগিতার ক্ষেত্রে আধুনিক কারিগরি গবেষণাগার ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, চীনা ভাষা প্রশিক্ষণ, জাতীয় পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানকে কৌশলগত অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এ জন্য স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়ন রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ২০২৬ সালে প্রথম ব্যাচের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং চীনা ভাষা শিক্ষা ও চীনে ইন্টার্নশিপের পাইলট কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ২০২৭ সালে গাজীপুরে জাতীয় কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমি ও গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সময়ে মিরসরাইকে জাতীয় কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ২০২৮ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতার একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হবে বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।