খুলনা বিভাগীয় শহরে গণপূর্ত বিভাগের নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীতে আমূল বদলে যাচ্ছে সরকারি অবকাঠামো। ক্যানসার হাসপাতালসহ বেশ কিছু মেগাপ্রকল্পের বাস্তবায়নে শহরের দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তন আসছে।গণপূর্ত ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন ৫ একর জমির ওপর পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ২৮০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ তলা এই ভবনের নির্মাণকাজ এখন শেষ পর্যায়ে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৪৫০ শয্যার এই বিশেষায়িত হাসপাতালে ক্যানসার রোগীদের জন্য ১৮২টি শয্যা বরাদ্দ থাকবে। বাকি শয্যাগুলোতে হৃদরোগ ও কিডনি রোগের আধুনিক চিকিৎসা মিলবে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাব্যয় অনেকাংশে কমে আসবে।পাশাপাশি খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রায় ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হাসপাতালটি এখন হস্তান্তরের অপেক্ষায়। এছাড়া সদর হাসপাতালে আইসিইউ ও আইসোলেশন বেড স্থাপন এবং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত অপারেশন থিয়েটার দ্রুততম সময়ে সংস্কারের কাজ করছে গণপূর্ত বিভাগ-২।দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর নতুন দরপত্রের মাধ্যমে খুলনা সদর ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটের কাজও পুনরায় শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, নূর নগর এলাকায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিভাগীয় কার্যালয় ও রূপসা থানা ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। জমি সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে শুরু হয়েছে বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্সের কাজও।খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান বলেন, ‘সিপিএম পদ্ধতিতে গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। ই-জিপি ও এলটিএম পদ্ধতির কারণে ঠিকাদারি ব্যবসায় দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট প্রথা ভেঙে গেছে। তবে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও সিন্ডিকেটবিরোধী অবস্থানের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।’