দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং বিকল্প জোগানের টেকসই ব্যবস্থার অভাব আমাদের শিল্প খাতের ভবিষ্যৎকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। জানা যায়, সরবরাহ বাড়াতে দৃশ্যমান ও বড় কোনো উদ্যোগ না থাকায় আগামী বছর থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের কয়েকশ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর সচল থাকলেও অনেক কারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসতে পারে। দেশের অর্থনীতির জন্য এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
গ্যাস সংকটের নেতিবাচক প্রভাব কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ নেই, এর বাস্তব রূপ ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। গাজীপুর, টাঙ্গাইল, আশুলিয়া, চন্দ্রা, ধনুয়া, রাজেন্দ্রপুর ও কোনাবাড়িসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। শুধু শিল্প খাতই নয়, তিতাস গ্যাসসহ বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির আওতাধীন আবাসিক গ্রাহকরাও রান্নার গ্যাস না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গাটি হলো কর্মসংস্থান। যদি কয়েকশ কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে লাখ লাখ শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি হারাবেন। বিপুল এই জনগোষ্ঠীর বেকারত্ব দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করবে। পাশাপাশি উৎপাদন কমলে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পাবে, যা মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দেবে। এ পরিস্থিতির জন্য জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং আমদানিনির্ভর স্পট মার্কেটের এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাকেই দায়ী করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধানে বছরের পর বছর যে স্থবিরতা ছিল, তার খেসারত এখন দিতে হচ্ছে পুরো দেশকে। গভীর ও অগভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের প্রক্রিয়া গতিশীল না করা এবং স্থলভাগের পুরোনো কূপগুলো খননে ধীরগতি এ সংকটকে আরও তীব্র করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধু আমদানির ওপর নির্ভর না করে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন বাড়াতে দ্রুত নতুন কূপ খনন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। একইসঙ্গে পাইপলাইনের সিস্টেম লস এবং অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযান জোরদার করা জরুরি। শিল্প খাত সচল না থাকলে দেশের অর্থনীতি ধসে পড়বে। তাই আর কোনো কালক্ষেপণ না করে দেশের শিল্প ও অর্থনীতিকে বাঁচাতে সরকারকে এখনই কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।








