বরগুনার বামনা উপজেলায় নিজ ঘর থেকে সাইফুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘুমের ওষুধ বা চেতনানাশক কিছু খাইয়ে বালিশচাপা দিয়ে সাইফুলকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তার স্ত্রী সুমাইয়া পলাতক রয়েছেন।

শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন খান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে শুক্রবার দিনগত গভীর রাতে উপজেলার অযোধ্যা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্বজনরা জানান, প্রায় দেড় বছর আগে উপজেলার অযোধ্যা এলাকার ইউনুস আলীর মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে একই এলাকার সাইফুল ইসলামের বিয়ে হয়। শুক্রবার রাতে খাবার খেয়ে প্রতিদিনের মতো স্ত্রীকে নিয়ে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান সাইফুল। তবে সকাল হলে তাদের কোনো সারা শব্দ না পেয়ে স্বজনরা ওই ঘরে গেলে সাইফুলকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তবে এ সময় ঘরের কোথাও সাইফুলের স্ত্রী সুমাইয়াকে পাওয়া যায়নি। পরে খবর পেয়ে অন্য স্বজন ও স্থানীয়রা ছুটে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

এরপর স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল পৌঁছে সাইফুলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে স্বজনদের অভিযোগ, সুমাইয়ার সঙ্গে অন্য পুরুষের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। আর এ কারণেই রাতে কৌশলে স্বামীকে চেতনানাশক কোনো কিছু অথবা ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার পর স্ত্রী সুমাইয়া পালিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে বামনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন খান বলেন, খবর পেয়ে সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে সাইফুল ইসলাম নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বালিশ চাপা দিয়ে অথবা চেতনানাশক কিছু খাইয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই নিহত ওই যুবকের স্ত্রী পলাতক রয়েছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নুরুল আহাদ অনিক/কেএইচকে