বিশ্বকাপে ২০ বছর পর কোনো এশিয়ান দেশের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার তেতো স্বাদ নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করল ব্রাজিল। শেষ বত্রিশের ম্যাচে ১-০ তে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে গেল কার্লো আনচেলত্তির দল। এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষেই বিশ্বকাপে প্রথমে গোল হজম করেছিল সেলেসাওরা।

ম্যাচের প্রথম মিনিটেই ব্রুনো গিমারেস ও তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ানের যুগলবন্দীতে প্রথম আক্রমণ শাণায় ব্রাজিল, যা কর্নারে পরিণত হয়। ৪ মিনিটে লুকাস পাকেতার রক্ষণচেরা পাস ধরে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বক্সে ঢুকলেও জাপানি কিপার সুজুকি তা নসাৎ করেন। ১১ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন জাপানের মিডফিল্ডার সানো। এর দুই মিনিট পর ব্রাজিলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরোও হলুদ কার্ডের গ্যাঁড়াকলে পড়েন। ১৪ মিনিটে মাথিয়াস কুনিয়ার চমৎকার একটি বাঁ-পায়ের শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা পায়। ২৫ মিনিটে যখন হাইড্রেশন ব্রেক হয়, তখন ব্রাজিলের বল পজিশন ছিল ৭৪ শতাংশ, কিন্তু তারা অন-টার্গেটে মাত্র একটি শট রাখতে পেরেছিল।

খেলার ধারার বিপরীতে ২৬ মিনিটে জাপানের উয়েদার বিপজ্জনক হেডের পর ২৯ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় ব্রাজিল। মাঝমাঠে ডিফেন্ডার দানিলোর এক ভুলে বলের নিয়ন্ত্রণ হারায় তারা। সেই সুযোগে গতিময় পাল্টা আক্রমণ থেকে কাসেমিরোকে অনায়াসে কাটিয়ে ডান পায়ের কোণাকুণি শটে বল জালে জড়ান কাইশু সানো। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটিই তাঁর প্রথম গোল। গোলরক্ষক আলিসন বেকার ঝাঁপিয়ে পড়েও বলের নাগাল পাননি। পিছিয়ে পড়ার পর ব্রাজিলের খেলায় চরম ছন্দহীনতা ও তাড়াহুড়ো দেখা যায়। জাপানের কোচ মোরিয়াসুর সুপরিকল্পিত 'অ্যানাকোন্ডা' রক্ষণে পুরোপুরি বোতলবন্দী হয়ে পড়েন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। ইতো ও দোয়ান নিচে নেমে ডিফেন্ডার তোমিয়াসুর সঙ্গে মিলে ভিনিসিয়ুসকে কোনো সুযোগই দেননি।

ম্যাচের ৩৭ মিনিটে মাঠের ভেতর পজিশন নিয়ে লুকাস পাকেতা ও মাথিয়াস কুনিয়ার মধ্যে কথা কাটাকাটি হতে দেখা যায়। ৪০ মিনিটে মাঝমাঠে কাসেমিরোর কাছ থেকে সহজেই বল কেড়ে নেন জাপানের মায়েদা। এমন ছন্নছাড়া পারফর‍ম্যান্সের পর দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি ব্রাজিল।