পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুর কার্যালয়ে গিয়ে ‘ঘুসের টাকা’ ফেরত চেয়ে ফেসবুকে লাইভ করেছেন এক নারী। সোমবার দুপুরের এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের মাগুরা এলাকার বাসিন্দা রেহেনা বেগম উর্মি নামের ওই নারী অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে ইউএনও আফরোজ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুস নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ওইদিনই পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন ওই নারী। পরে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ডিসি শুকরিয়া পারভীন। আর ওই ইউএনও ঘটনাটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন। ডিসির কাছে লিখিত অভিযোগে রেহেনা বেগম উর্মি দাবি করেন, ২০২৫ সালে চরম আর্থিক সংকটে পড়ে তিনি তেঁতুলিয়ার ইউএনওর কার্যালয়ে সরকারি সহায়তার জন্য যান। একপর্যায়ে ইউএনও তার ছেলেকে গ্রাম পুলিশে চাকরির আশ্বাস দিয়ে খরচ হিসাবে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। ডিসেম্বরে তিনি ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন এবং বাকি টাকা চাকরিতে যোগদানের পর দেবেন বলে জানান।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সোমবার ইউএনও আফরোজের রংপুরের তারাগঞ্জে বদলির খবর জানতে পেরে তার কার্যালয়ে গিয়ে ওই ঘুসের টাকা ফেরত চান রেহেনা। এ সময় ইউএনও তাকে চেনেন না বলে জানান। একপর্যায়ে ওই নারী ফেসবুক লাইভে এসে বিষয়টির সমাধান চান। তিনি অভিযোগ করেন, ঘুসের টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক করে জেল জরিমানার ভয় দেখানো হয়েছে। বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়। পরে ডিসির কার্যালয়ে লিখিত অভিযাগ দেন ওই নারী। এদিকে ঘটনাটি ষড়যন্ত্র দাবি করে মঙ্গলবার সকালে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন উপজেলার প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তেঁতুলিয়ার ইউএনও আফরোজ শাহিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের ডিসি শুকরিয়া পারভীন বলেন, রেহেনা বেগমের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি প্রাথমিকভাবে তদন্ত করা হয়েছে। তবে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।