ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই না ফেরার দেশে চলে যাওয়া অনাগত সন্তান হারানোর শোক চাপা দিয়ে তিনদিন পর বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছিলেন কোডি গাকপো। বুকের ওপরে থাকা নেদারল্যান্ডসের পতাকার ভারটাও বইলেন সমানতালে। কিন্তু ভাগ্য প্রসন্ন হলো না ডাচ তারকার। দুরন্ত গোল করেও বিশ্বকাপ স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল গাকপোর। বিশ্বকাপ শুরুর আগে গাকপো ও তার বান্ধবী জানিয়েছিলেন, আগামী অক্টোবরে তাদের দ্বিতীয় সন্তান আসবে। কিন্তু জন্মের আগেই গর্ভাবস্থায় মারা গেছে সেই সন্তান। গাকপোর বান্ধবী নোয়া ভ্যান ডার বিজের গর্ভে পুত্রসন্তান ছিল। তবে অনাগত সন্তানের মৃত্যু শোকেও বিশ্বকাপের মঞ্চ ছেড়ে যেতে চাননি ডাচ তারকা। তার জন্য ছুটিও মঞ্জুর করেছিল নেদারল্যান্ডসের টিম ম্যানেজমেন্ট।
সন্তানশোক সামলে উঠতে না উঠতেই বিশ্বকাপে মরণ-বাঁচন ম্যাচ। শনিবার মৃত্যু হয়েছে গাকপোর অনাগত পুত্রের। মঙ্গলবার ভোরে মাঠে নেমে পড়েন লিভারপুল তারকা। সম্ভবত সন্তানশোকে বিহ্বল থাকার কারণে ম্যাচে অধিকাংশ সময় জ্বলে উঠতে পারেননি। মরক্কোর বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে নেদারল্যান্ডস দাঁড়াতে পারেনি। আগাগোড়া দাপট ছিল আশরাফ হাকিমিদের। ৬৫ মিনিটের পর থেকে খানিকটা আক্রমণ দেখা যায় নেদারল্যান্ডসের। তখনই নেদারল্যান্ডসের উদ্ধারকর্তা হয়ে ওঠেন গাকপো। ৭২ মিনিটে তার গোলে এগিয়ে যায় ডাচরা। গোল করেই কেঁদে ফেলেন। সতীর্থরা জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন তাকে। ডাচভক্তরা তখন ধরেই নিয়েছেন, পরের রাউন্ডে যাচ্ছে নেদারল্যান্ডস। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে খেলা ১-১। অতিরিক্ত সময় পেরিয়ে ম্যাচ গড়ায় পেনালটি শুটআউটে। বিশ্বকাপ ডাচদের পেনালটি-ভাগ্য সাম্প্রতিক অতীতে একেবারেই ভালো নয়। গত তিনটি বিশ্বকাপের দুটিতে নেদারল্যান্ডস পেনালটি শুটআউটে হেরে বিদায় নেয়। মরক্কোর বিরুদ্ধেও ব্যর্থ হলো তারা। ডাচদের শেষরক্ষা হলো না।








