ঢাকা: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটা মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ইনস্টাগ্রামে চালু করা একটি নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক চিত্র পরিবর্তনের ফিচার সরিয়ে নিয়েছে। মঙ্গলবার ঘোষিত 'মিউজ ইমেজ' নামের এই সরঞ্জাম ব্যবহারকারীদের মেটা এআই চ্যাটবটের মাধ্যমে সর্বজনীন ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ট্যাগ করে দ্রুত কৃত্রিম চিত্র তৈরি বা সম্পাদনার সুযোগ দিত। কিন্তু গোপনীয়তা ও সম্মতি নিয়ে উত্থিত প্রশ্নগুলো দ্রুতই ব্যাপক সমালোচনায় পরিণত হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানি সিদ্ধান্ত বদল করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিউজ ইমেজ ছিল মেটার এআই চিত্র তৈরির ক্ষেত্রে প্রথম বড় পদক্ষেপ। তবে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের ডিফল্টভাবে এই সেবায় অন্তর্ভুক্ত রাখার সিদ্ধান্তই বিতর্কের মূল কেন্দ্রে চলে আসে। এর ফলে যাদের অ্যাকাউন্ট সর্বজনীন, তাদের ছবি বা কনটেন্ট অনুমতি ছাড়াই অন্য কারও কৃত্রিম চিত্রে ব্যবহার হতে পারত বলে দাবি করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত পরিচয় ও ছবির অধিকার রক্ষার দাবি আরও জোরালো হয়।

সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া

হলিউডভিত্তিক পেশাদার সংগঠন স্যাগ-আফট্রা এই সিদ্ধান্তকে একটি 'জয়' হিসেবে বর্ণনা করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ আছে। সংগঠনটি আগে থেকেই সদস্যদের এবং সব ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীকে নিজেদের চেহারা ও পরিচয় সুরক্ষিত রাখতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা প্রাইভেসি ইন্টারন্যাশনালও ফিচারটির তীব্র সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির দাবি, এটি আরও একবার প্রমাণ করে যে এআই কোম্পানিগুলো মানুষের ছবি ও তথ্যকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারযোগ্য কাঁচামাল হিসেবে দেখে।

মেটা নিজেদের বক্তব্যে বলেছে, তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটি সৃজনশীল সরঞ্জাম দেওয়া এবং সর্বজনীন কনটেন্ট কীভাবে ব্যবহার হবে তা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারকারীদের কিছুটা ক্ষমতা রাখা। কিন্তু ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া শুনে তারা বুঝতে পেরেছে যে এই পদ্ধতি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। কোম্পানি স্বীকার করেছে যে তারা 'লক্ষ্যমাত্রা মিস করেছে' এবং সংশ্লিষ্ট ফিচারটি আর উপলব্ধ নেই। মিউজ ইমেজ প্রাথমিকভাবে শুধু ইনস্টাগ্রামে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল, তবে ভবিষ্যতে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ও মেসেঞ্জারেও এ ধরনের এআই সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এআই ভিডিও সরঞ্জাম নিয়েও কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

তবে মেটা এই বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এআই প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য, সম্মতি ও সৃজনশীল কনটেন্টের মালিকানা নিয়ে নিয়ন্ত্রক ও ব্যবহারকারী উভয় পক্ষের জন্যই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। মেটার এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে জনমত ও গোপনীয়তার উদ্বেগ উপেক্ষা করলে নতুন প্রযুক্তি বাজারে টিকে থাকা কঠিন হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি