রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতে হামলা চালিয়ে আটক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামি ফয়সাল শেখকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এ নিয়ে ওই ঘটনায় মোট সাতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে র্যাব–১০–এর ফরিদপুর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিপিসি–৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা। তিনি বলেন, গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তি ও র্যাব–৬–এর সহযোগিতায় বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকা থেকে ফয়সাল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফয়সাল গোয়ালন্দ উপজেলার উত্তর দৌলতদিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং গোয়ালন্দ ঘাট থানার একাধিক মাদক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
র্যাব জানায়, ২০ জুন দৌলতদিয়া পোড়াভিটা এলাকায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনতাসীর হাসান খানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। এ সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা ফয়সালের দেহ তল্লাশি করে হেরোইন উদ্ধার করেন এবং তাঁকে আটক করেন। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতির সময় ফয়সালের সহযোগী ব্যক্তিরা সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ওপর হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাফ পরিহিত অবস্থায় তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজবাড়ী কার্যালয়ের পরিদর্শক রাসেল আলী বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা করেন। মামলায় ফয়সালসহ দুজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এবং সরকারি কাজে বাধা, আসামি ছিনিয়ে নেওয়া ও সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা হয়।
মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা জানান, মামলার তদন্তের স্বার্থে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে অভিযান চালিয়ে পলাতক প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, র্যাব দুপুর ১২টার দিকে ফয়সালকে থানায় হস্তান্তর করে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় এর আগে পুলিশ আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।







