গত দুই দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জের নদ-নদীগুলোতে অব্যাহতভাবে পানি বাড়ছে। ইতোমধ্যেই বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে খোয়াই ও কুশিয়ারা নদীর পানি।

এছাড়াও সুতাং, করাঙ্গি ও সোনাইসহ অন্যান্য নদীতেও প্রতিনিয়ত পানি বাড়ছে। ফলে নদী তীরবর্তী এলাকাসহ হাওরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে বন্যা প্রতিরোধে সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা।

জানা গেছে, বেশ কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড গরম পড়েছিল। হঠাৎ করেই মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে জেলায় ভারি বর্ষণ শুরু হয়। মঙ্গলবার ও বুধবার দিনভর টানা বর্ষণ হয়। দুইদিনের বৃষ্টিপাতের ফলে জেলায় সবগুলো নদ-নদীতেই পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। বুধবার দুপুরের পর থেকে খোয়াই ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে চলে যায়। এ অবস্থায় নদীর তীরবর্তী ও হাওর এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

হবিগঞ্জে বাড়ছে নদীর পানি, খোয়াই-কুশিয়ারায় বিপৎসীমার উপরে

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, উজানে ও দেশের অভ্যন্তরে প্রচুর পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরের পর থেকেই খোয়াই ও কুশিয়ারা নদীতে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে থাকে। খোয়াই নদীতে চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা সীমান্ত (বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত) পয়েন্টে বিকেল ৩টায় পানি বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আর কুশিয়ারা নদীর আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ক্রমেই পানি বাড়ছে। এছাড়া করাঙ্গি, সুতাং ও সোনাইসহ জেলার সবকটি নদ-নদীতেই পানি বাড়ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, এখনও পর্যন্ত বন্যার কোনো পূর্বাভাস পাইনি। তবে পূর্বাভাস পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এসজেডএইচ/এএসএম