ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় বারবার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পেছানো ও জড়িতদের বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করার মধ্য দিয়ে প্রকৃত খুনি ও খুনের পরিকল্পনায় জড়িতদের আড়াল করার পায়তারা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ওসমান হাদীর বোন মাসুমা হাদী।
রোববার (১৯ জুলাই) শাহবাগে জাদুঘরের সামনে ‘ওসমান হাদী হত্যা মামলার তদন্ত ১৮ বার পেছানোর প্রেক্ষাপটে ভুক্তভোগী পরিবারের বক্তব্য ও পরবর্তী করণীয়’ নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাসুমা হাদী বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী বিপ্লবী ঢাকা-৮ নির্বাচনি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার একদিন পর নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। সকল তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারেনি কিংবা করেনি। যার ফলে খুনিরা সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে নিরাপদে পালিয়ে যায়।
আরও পড়ুন
ওসমান হাদি হত্যা / তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ১৮ দফায় সময় গড়ালো, নতুন তারিখ ২০ আগস্ট
তিনি বলেন, হত্যার সাত মাস অর্থাৎ ২১৮ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত চার্জশিট দাখিল হয়নি। ফলে আমরা আশঙ্কা করছি, বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘায়িত করার মধ্য দিয়ে প্রকৃত খুনি ও খুনের পরিকল্পনায় জড়িত পেছনের কুশীলবদের আড়াল করার পায়তারা চলছে। আমরা এ ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ এবং মর্মাহত।
মাসুমা হাদী আরও বলেন, আমি ভাই হত্যার বিচারের দাবি নিয়ে এখানে এসেছি। এরই মধ্যে বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীকে বারবার তদন্ত প্রতিবেদন পেছানোর বিষয়টি অবগত করে স্মারকলিপি দিয়েছি। স্মারকলিপিতে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেছি, ১৮ বার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল পেছানো হয়েছে। আগামী ৩৬ জুলাইয়ের (৫ আগস্ট) মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করে দ্রুত প্রকৃত খুনি ও পরিকল্পনাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, অন্য একটি স্মারকলিপিতে আইনমন্ত্রীকে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের জন্য তার সোচ্চার ভূমিকার দাবি জানিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীকেও একটি স্মারকলিপি দিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, বর্তমান সরকার হাদীর হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করে নজির স্থাপন করবে। যেন আর কোনো দুষ্কৃতকারী দেশপ্রেমিক কোনো বিপ্লবীকে হত্যার দুঃসাহস না করে।
এসময় তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আগামী ৩৬ জুলাইয়ের (৫ আগস্ট) মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে দ্রুততার সঙ্গে বিচার নিশ্চিত করা না হয়, তবে আমি বোন হিসেবে শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে বাংলাদেশপন্থি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে হাদী হত্যার বিচার আদায় করে ছাড়বো।
কেআর/এমকেআর








