চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। অনিয়ম, অব্যস্থাপনা ও অতিরিক্ত খরচের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ বছর এসব সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারের কঠোর নজরদারি, প্রযুক্তিনির্ভরসেবা ও প্রশাসনের সরাসরি তদারকির কারণে হজযাত্রীদের ভোগান্তি কমেছে-এসেছে স্বস্তি।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার শুরু থেকেই পুরো হজ ব্যবস্থাপনা ছিল নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায়। মক্কা, মদিনা ও জেদ্দায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক দল নিয়মিতভাবে হজযাত্রীদের সেবা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান করেছে।

হজ ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বেসরকারি এজেন্সি নিয়ন্ত্রণে। অতীতে যেসব অনিয়ম ও অতিরিক্ত খরচের অভিযোগ ছিল, তা অধিকাংশই মূলত এজেন্সিকেন্দ্রিক। ২০২৪ সালে যেখানে ২৫৯টি এজেন্সি কার্যক্রমে ছিল, ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ৭০টিতে। আর ২০২৬ সালে লিড এজেন্সি ব্যবস্থা চালুর পর এ সংখ্যা এখন মাত্র ৩০টি। ফলে আবাসন, পরিবহণ ও খাবার সেবায় নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়-অনেকটাই কমে আসে অনিয়মের সুযোগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর নজরদারি, প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের কারণে এবারের হজ ব্যবস্থাপনা তুলনামূলক সফল হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যঝুঁকি, প্রবীণ হজযাত্রীর চাপ এবং স্বাভাবিক লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতার বিষয় হিসাবে রয়ে গেছে। তাদের ধারণা, এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামীতে বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও কার্যকর মডেলে পরিণত হতে পারে।

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) যুগান্তরকে বলেন, এবারের হজ ব্যবস্থাপনা ছিল একই সঙ্গে বড় চ্যালেঞ্জ ও সফল অভিজ্ঞতা। শুরু থেকেই কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন মনিটরিং, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং আইটি সাপোর্টের মাধ্যমে হাজিদের সর্বোচ্চসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

জানা যায়, এবার সৌদি আরবে বাংলাদেশ হজ আইটি হেল্পডেস্ক থেকে ২৮ হাজারের বেশি সেবা দেওয়া হয়েছে। হজ পালন শেষে মনির আহমেদ নামে একজন জানান, এবার তথ্যপ্রাপ্তি, পরিবহণ এবং আবাসন ব্যবস্থাপনা আগের তুলনায় অনেক বেশি সহজ ও স্বচ্ছ ছিল। ফলে ভোগান্তি কমেছে-সামগ্রিক অভিজ্ঞতায় স্বস্তি এসেছে। এবার হজযাত্রীদের হারিয়ে যাওয়ার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৯ সালে হারানো ও উদ্ধার হওয়া হাজির সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৯ জন, যা ২০২৬ সালে নেমে এসেছে ৭২২ জনে।

এবার পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয় ২৬ মে। দেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজে যান।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো জবাবদিহিতা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। ঢাকা আশকোনা হজ ক্যাম্পের পরিচালক মো. লোকমান হোসেন যুগান্তরকে বলেন, শেষ ফ্লাইট ছিল ৩০ জুন। হজ শেষে সবাই নিরাপদে দেশে এসেছেন। দেশে ফেরার প্রতিটি ফ্লাইটের যাত্রীদের সেবা দিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা একযোগে কাজ করেছে।