বিখ্যাত সুফি সাধক হজরত বায়েজিদ বোস্তামির মৃত্যুবার্ষিকী আজ ৯ জুলাই। তিনি ৮০৪ সালে ইরানের বোস্তাম শহরে জন্মগ্রহণ করেন। বোস্তামি নামের অর্থ-যিনি বোস্তাম শহরের বাসিন্দা। বায়েজিদ বোস্তামি আবু ইয়াজিদ বোস্তামি, তায়ফুর আবু ইয়াজিদ আল-বোস্তামি এবং সুলতান-উল-আরেফিন নামেও পরিচিত।

হযরত বায়েজিদের পিতামহ পার্সি ধর্মাবলম্বী ছিলেন, যিনি পরবর্তীকালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তার পিতামহের তিন ছেলে ছিল, তারা হলেন-আদম, তায়ফুর ও আলী। তারা সবাই কঠোর তপস্বী ছিলেন। তায়ফুরের ছেলে হলেন বায়েজিদ। তার শৈশব সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না, তবে বেশির ভাগ সময়ই তিনি নিজ বাড়ির নিভৃতে অথবা মসজিদে কাটিয়েছেন বলে জানা যায়। সুফিবাদের আলোচনা করার জন্য তিনি লোকজনকে নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ করতেন। বায়েজিদ কঠোর তপস্যা করতেন এবং সৃষ্টির্কতার সান্নিধ্য লাভের আশায় দুনিয়ার সব আনন্দ-ফুর্তি থেকে নিজেকে দূরে রাখতেন। হজরত বায়েজিদ বোস্তামি সম্পর্কে একটি প্রচলিত কাহিনি রয়েছে : একদিন তার মা অসুস্থ ছিলেন। এক রাতে মা বায়েজিদ বোস্তামিকে পান করার জন্য পানি আনতে বলেন। বায়েজিদ ঘরে পানি না পেয়ে অন্ধকার রাতে নদী থেকে পানি নিয়ে আসেন। এসে দেখেন মা ঘুমিয়ে পড়েছেন। তিনি ভাবলেন মাকে জাগালে মায়ের ঘুম ভেঙে যাবে, তাই তিনি পানি হাতে দাঁড়িয়ে থাকলেন। সকালে মায়ের ঘুম ভাঙার পর দেখলেন তার ছেলে পানি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি অবাক হলেন, খুশি হলেন। মা প্রাণভরে ছেলের জন্য দোয়া করলেন। আল্লাহ মায়ের দোয়া কবুল করলেন। পরে বায়েজিদ বোস্তামি পৃথিবীখ্যাত ওলি হিসাবে পরিচিত হন।

হজরত বায়েজিদ বোস্তামি ৮৭৪ সালের ৯ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। সম্ভবত তাকে বোস্তামে সমাহিত করা হয়। বাংলাদেশের চট্টগ্রামে একটি প্রাচীন মাজার রয়েছে, যাকে বলা হয় বোস্তামির সমাধিস্থল। তবে এ অঞ্চলে তার ভ্রমণের কোনো নথিভুক্ত প্রমাণ নেই। তুরস্কের কিরিখানেও বায়েজিদ বোস্তামির নামে একটি মাজার রয়েছে।