নব্বইয়ের দশকে যে নরওয়ে বিশ্ব ফুটবলে আতঙ্কের নাম ছিল, দীর্ঘ খরার পর আবার কি সেই সোনালী অধ্যায় ফিরছে তাদের? আর্লিং হালান্ড ও মার্টিন ওদেগার্ডের মতো বিশ্বসেরা দুই তারকাকে ঘিরে নরওয়েজিয়ান ফুটবলে এখন যে উন্মাদনা চলছে, তা দলটিকে নতুন এক ‘সোনালী যুগ’-এর স্বপ্ন দেখাচ্ছে। শুধু তারকা নয়, বিশ্বমঞ্চে বড় সাফল্যই এই প্রজন্মের প্রকৃত যোগ্যতা প্রমাণ করবে। আর সেই পরীক্ষা আজ রাতেই। প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট ও সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।

আগে নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় মুহূর্ত ১৯৯৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপে। গ্রুপ পর্বে শক্তিশালী ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল তারা। ওলসেনের শারীরিক ও কৌশলী ফুটবলে নকআউট পর্বে উঠেছিল নরওয়ে। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে সেই চিরপ্রতিপক্ষ ব্রাজিলকে শেষ ষোলো পর্বে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে হালান্ড-ওডেগার্ডরা। হালান্ডের বুলেট গতির শট আর ওডেগার্ডের অসাধারণ পাসিং যেন ৯৮-এর স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।

একসময় ফিফা র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষ দলগুলোর একটি ছিল নরওয়ে। কিন্তু বিশ্বকাপে তাদের সর্বোচ্চ অর্জন ছিল কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই থেমে যাওয়া। এবার প্রথমবারের মতো শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে তারা। গ্রুপ পর্বের আত্মবিশ্বাস নিয়ে এখন কোয়ার্টার ফাইনালে। আজ রাতে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ডের। হ্যারি কেইনের নেতৃত্বে অন্যতম বিশ্বসেরা স্কোয়াডের বিপক্ষে এটি হালান্ড-ওদেগার্ডদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অ্যাসিড টেস্ট।

ওডেগার্ডের নেতৃত্বগুণ আর হালান্ডের অতিমানবীয় গোলস্কোরিং ফর্ম যদি আজ ক্লিক করে, তাহলে ইতিহাস নতুন করে লেখা সম্ভব। একটি সত্যিকারের সোনালী যুগ প্রতিষ্ঠা করতে হলে নরওয়েকে সেমি বা ফাইনালের মতো বড় মঞ্চে পা রাখতেই হবে। তাই আজকে জয়টা আসলে শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়, নরওয়েজিয়ান ফুটবলের পুনর্জন্মের ঘণ্টাধ্বনি হবে।

এই মহারণে নরওয়ে যদি ইংল্যান্ডকে হারাতে পারে, তবে বিশ্বমঞ্চে নযরওয়ের সমীহ আরও বাড়বে। হালান্ড-ওদেগার্ডের এই প্রজন্ম তখন সত্যিই সোনালী যুগের নায়ক হয়ে উঠবে। আজ রাতের লড়াইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে পুরো নরওয়ে। সেই সঙ্গে ফুটবল প্রিয় মানুষরা তো অবশ্যই।

আরআই/আইএইচএস/