বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে আরলিং হালান্ডের সঙ্গে নিজের তুলনার বিতর্কে পানি ঢেলেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তার মতে, তারা দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের স্ট্রাইকার। তবে ম্যানচেস্টার সিটির তারকার গোল করার অসাধারণ দক্ষতা ও শারীরিক সামর্থ্যের প্রশংসা করতে ভোলেননি বায়ার্ন মিউনিখের এই ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তার একমাত্র লক্ষ্য ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জেতানো।
ইংল্যান্ড-নরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে কে বেশি কার্যকর গোলদাতা- কেইন নাকি হালান্ড, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে কেইনের দাবি, দুজনই স্ট্রাইকার হলেও মাঠে তাদের ভূমিকা একেবারেই আলাদা। তাই সরাসরি তুলনা করাটা ঠিক নয়।
কেইনের মতে, তার নিজের খেলার ধরন তাকে শুধু গোলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে না; বরং আক্রমণ গড়ে তোলা ও সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয়েও তাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হয়।
শেষ আটের ম্যাচের আগে নেটাভিসেনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেইন বলেন, হালান্ডের সঙ্গে তার তুলনা খুব একটা অর্থবহ নয়। দুজনই নিয়মিত গোল করলেও মাঠে তাদের দায়িত্ব এক নয়।
কেইন বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমার জন্য অসম্ভব। প্রথমত, আমি মনে করি আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের খেলোয়াড়। জানি, আমাদের দুজনকেই স্ট্রাইকার হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু সত্যি বলতে, আমরা যেন দুটি ভিন্ন অবস্থানে খেলি। আরলিং অসাধারণ। তার গোলের পরিসংখ্যান অবিশ্বাস্য। শারীরিকভাবে সে যেন একটি যন্ত্র, এক কথায় দানব। গোল করার দক্ষতা সর্বোচ্চ পর্যায়ের। তার গোলের পরিসংখ্যানই সব বলে দেয়।’
‘আমিও গোল করি, তবে আমি বলের সংস্পর্শে আরও বেশি থাকতে পছন্দ করি, খেলায় বেশি সম্পৃক্ত থাকতে চাই এবং সতীর্থদের সঙ্গে সমন্বয় করতে ভালোবাসি। যদিও প্রয়োজনে আমি খাঁটি নাম্বার নাইন হিসেবেও খেলতে পারি। তাই আমি মনে করি না, আমাদের মধ্যে তুলনা করা উচিত।’
বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের লড়াইও এখন জমে উঠেছে। বর্তমানে হালান্ডের গোল সাতটি, আর কেইনের গোল ছয়টি। তবে ইংল্যান্ড অধিনায়ক জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যক্তিগত পুরস্কারের আগে বিশ্বকাপ জেতাই তার একমাত্র লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ‘সব স্ট্রাইকারই যেভাবে গোল করছে, তাতে এটি দারুণ একটি বিশ্বকাপ হয়ে উঠেছে। বড় টুর্নামেন্টে সব সময় এমনটা দেখা যায় না। প্রতিযোগিতা কঠিন, আর সেটিই আমাকে সেরাটা দেওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। আমার প্রধান লক্ষ্য গোল্ডেন বুট নয়, ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জেতানো। তবে আমি জানি, দলকে সফল করতে আমার কাজ হলো গোল করা।’
কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড ও নরওয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে নিজ নিজ দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব দেবেন কেইন ও হালান্ড। দুই তারকা স্ট্রাইকারের এই দ্বৈরথ নিঃসন্দেহে ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হতে যাচ্ছে। তবে ব্যক্তিগত লড়াইয়ের চেয়ে দুজনেরই মূল লক্ষ্য থাকবে দলকে জয় এনে দিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে দেওয়া।
আরএএইচইউএল/আইএইচএস/








