মেক্সিকোর বিপক্ষে জয়ের পর জ্যারেল কোয়ানসার এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে দুই ম্যাচ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল। তার অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর কোনো ব্যাখ্যাই ফিফা দেয়নি। এমন পরিস্থিতিতেই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইংল্যান্ড।
টুখেল জানান, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মেক্সিকোর বিপক্ষে লাল কার্ড দেখার পর কোয়ানসাহর নিষেধাজ্ঞা কেন দুই ম্যাচে বাড়ানো হলো, সে বিষয়ে ইংল্যান্ড দলকে কিছুই জানানো হয়নি।
আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনার পর কোয়ানসাকে লাল কার্ড দেখানো হয়। মেক্সিকোর হেসুস গালিয়ার্দোর গোড়ালিতে উঁচু স্টাড দিয়ে ট্যাকল করার কারণে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। সাধারণত এ ধরনের সরাসরি লাল কার্ডের শাস্তি এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা হলেও ঘটনাটিকে গুরুতর ফাউল হিসেবে বিবেচনা করে শাস্তি বাড়ানো হয়েছে।
টুখেলের ম্যাচ-পরবর্তী রেফারিং নিয়ে সমালোচনা নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর পেছনে ভূমিকা রেখেছে- এমন আলোচনা থাকলেও ইংল্যান্ড কোচ দাবি করেন, ফিফা তাদের কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তা মনে করি না। আমাদের কাছেও এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা নেই।’
মেক্সিকোর বিপক্ষে জয়ের পরই টুখেল রেফারিংয়ের মান ও ধারাবাহিকতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। বিবিসিকে তিনি বলেছিলেন, ‘এটা মোটেও যথেষ্ট ভালো নয়। রেফারিদের মান যথেষ্ট ভালো নয়। চতুর্থ কর্মকর্তাদের মানও যথেষ্ট ভালো নয়। এটাই বাস্তবতা। মেক্সিকোর পেনাল্টির ঘটনাটি কি এতটাই স্পষ্ট ভুল ছিল যে ভিডিও সহকারী রেফারিকে হস্তক্ষেপ করতে হতো? অবশ্যই নয়। কিন্তু তারা হস্তক্ষেপ করেছে। যে পরিস্থিতিতে তিনি ফাউলই দেননি, সেটিই পরে উল্টে দেওয়া হয়েছে। এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।’
নিষেধাজ্ঞার এই বিতর্ক ম্যাচ-পূর্ব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলেও টুখেল চান, তার দল যেন মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়। আজতেকার প্রতিকূল পরিবেশে দল যে মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে, সেটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। তবে নকআউট পর্বে আরও ভালো করার তাগিদও দিয়েছেন ইংল্যান্ড কোচ।
টুখেল বলেন, ‘আমার মনে হয় শেষ ম্যাচে আমরা বড় একটি পদক্ষেপ নিয়েছি। তবে সেটি ছিল মাত্র একটি ধাপ। আমাদের এখনও ক্ষুধা আছে, স্বপ্ন আছে এবং বড় একটি লক্ষ্য সামনে রয়েছে। এখন পরবর্তী ধাপ হলো কোয়ার্টার ফাইনালে জেতা। আগের ম্যাচ আমরা পেছনে ফেলে এসেছি। সেখানকার ইতিবাচক বিষয়গুলো এবং আত্মবিশ্বাস সঙ্গে নিয়ে এগোচ্ছি। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো আমাদের সামনে।’
এখন ইংল্যান্ডের পুরো মনোযোগ মিয়ামিতে নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে। কোয়ানসাহর নিষেধাজ্ঞা দলকে কিছুটা বিঘ্নিত করলেও টুখেলের আশা, তার খেলোয়াড়রা এই বিতর্কে মনোযোগ না দিয়ে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে উঠতে পারবে।
আরএএইচইউএল/আইএইচএস/








