বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দুজন স্ট্রাইকার। একদিকে গোল মেশিন আর্লিং হালান্ড, অন্যদিকে ইংল্যান্ডের আস্থার প্রতীক হ্যারি কেইন। শনিবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৩টায় ফ্লোরিডার হার্ড রক স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে মুখোমুখি হওয়ার আগে তাই স্বাভাবিকভাবেই ঘুরে ফিরে আসছে প্রশ্ন; দুজনের মধ্যে সেরা কে?

তবে এই বিতর্কে জড়াতে রাজি নন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। তার কাছে ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের চেয়ে অনেক বড় বিষয় বিশ্বকাপের ট্রফি। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কেইন বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমার জন্য অসম্ভব। প্রথমত, আমার মনে হয় আমরা দুজনে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার খেলোয়াড়। আমরা দুজনেই সিনিয়র স্ট্রাইকার হলেও মাঠে প্রায় দুটি ভিন্ন পজিশনে খেলি।’

চলতি আসরে গোলের লড়াইটাও বেশ জমে উঠেছে। নরওয়ের তারকা হালান্ড এখন পর্যন্ত করেছেন ৭ গোল। কেইনের গোল ৬টি। আর ৮টি করে গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।

তবে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান নিয়ে ভাবার সময় এখন নয় বলেই মনে করেন ইংলিশ অধিনায়ক। নিজের খেলার ধরন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সমপরিমাণ গোল করলেও নিজেকে একটু ভিন্ন খেলোয়াড় হিসেবে দেখি। আমি হয়তো মাঠে বল একটু বেশি ছোঁয়া বা হোল্ড করা পছন্দ করি, তবে প্রয়োজন হলে পুরোদস্তুর নম্বর নাইন হিসেবেও খেলতে পারি।’

প্রতিপক্ষ হলেও হালান্ডের প্রতি প্রশংসা লুকাননি কেইন। নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর ফরোয়ার্ড হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আর্লিং অবিশ্বাস্য। শারীরিকভাবে সে একটা মেশিন, একটা দানব। ওর ফিনিশিং সর্বোচ্চ স্তরের এবং ওর গোল করার রেকর্ডই ওর হয়ে কথা বলে।’

এরপর হালকা রসিকতার সুরে যোগ করেন, ‘আশা করি ম্যাচে ও শান্ত থাকবে (গোল পাবে না)। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওর সামগ্রিক পারফরম্যান্সই বলে দেয় সে কতটা চমত্কার খেলোয়াড়।’

গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকলেও কেইনের কাছে সবচেয়ে বড় স্বপ্ন বিশ্বকাপ জেতা। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই প্রাধান্য দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মূল লক্ষ্য ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা, গোল্ডেন বুট নয়। তবে আমি এটাও জানি যে আমি দলের মূল গোলদাতা, নম্বর নাইন। তাই আমি গোল করলে তা স্বাভাবিকভাবেই দলকে সাহায্য করবে।’

শনিবারের ম্যাচটি কেইনের জন্য আরেকটি ব্যক্তিগত মাইলফলকও বয়ে আনতে পারে। নরওয়ের বিপক্ষে মাঠে নামলেই ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা ফুটবলার হিসেবে ওয়েন রুনির ১২০ ম্যাচের রেকর্ড স্পর্শ করবেন তিনি। এ প্রসঙ্গে কেইনের মন্তব্য, ‘ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ‘ওয়াজ্জা’র (রুনি) সমান ম্যাচে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা অত্যন্ত গর্বের।’

ইতিহাস অবশ্য ইংল্যান্ডের পক্ষেই কথা বলছে। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ৭-২ ব্যবধানে এগিয়ে থ্রি লায়ন্সরা। আরও বড় বিষয়, শেষ চার দেখায় ইংল্যান্ডের জালে একবারও বল জড়াতে পারেনি নরওয়ে।

তবে অতীতের পরিসংখ্যান দিয়ে বর্তমানকে বিচার করতে নারাজ ফুটবলবিশ্ব। কারণ, স্টলে সোলবাকেনের দল ইতোমধ্যেই পাঁচ ম্যাচে ১২ গোল করেছে এই বিশ্বকাপে। ব্রাজিলকে বিদায় দিয়েছে। হালান্ডকে সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর নরওয়ে যে ইংল্যান্ডের জন্য কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই।

এই কোয়ার্টার ফাইনালের জয়ী দল জায়গা করে নেবে বিশ্বকাপের শেষ চারে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা অথবা সুইজারল্যান্ড।