মরক্কোর বিপক্ষে ২-০ গোলের দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল পেরিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার পর ফ্রান্স দলের ড্রেসিংরুমে হঠাৎ হাজির হয়ে খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড থিয়েরি অঁরি। সেখানে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে উষ্ণ আলিঙ্গনে আবদ্ধ হন তিনি। দলের রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের ভূয়সী প্রশংসা করলেও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, তাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি।
১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী অঁরি বোস্টন স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে জয়ের পর ফ্রান্সের ড্রেসিংরুমে যান। তার উপস্থিতিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন উসমান দেম্বেলে, মালো গাস্তো ও লুকাস হার্নান্দেজসহ দলের খেলোয়াড়রা। এ সময় অধিনায়ক এমবাপের সঙ্গেও আন্তরিকভাবে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ফরাসি কিংবদন্তি।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করছেন থিয়েরি অঁরি। তিনি স্বীকার করেন, দিদিয়ের দেশমের দলের পারফরম্যান্স তাকে পুরোপুরি মুগ্ধ করেছে।
পরিপাটি স্যুট পরে ড্রেসিংরুমে ঢুকেই তিনি খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানান। ফ্রান্স জাতীয় দলের আনুষ্ঠানিক গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে ফ্রান্সের ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা এই ফুটবলার দলের অসাধারণ পারফরম্যান্সের বিশ্লেষণ করেন। বিশেষ করে বলের দখলে না থাকলেও যেভাবে দলটি দ্রুত বল পুনরুদ্ধার করেছে, সেটিকেই তিনি সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন।
অঁরি এমবাপে ও সতীর্থদের উদ্দেশে বলেন, ‘সত্যি বলতে, তোমাদের আর কী বলব, সেটাই বুঝতে পারছি না।’
এরপর তিনি যোগ করেন, ‘বলের দখলে থাকলে তোমরা বরাবরের মতোই অসাধারণ। কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধকর বিষয় হলো, দলটি কত দ্রুত বল ফিরিয়ে আনতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বল দখলে না থাকলে দলটি যা করে, তা অসাধারণ। আমরা সবাই জানি, বল পায়ে থাকলে এই দল কী করতে পারে। কিন্তু প্রতিপক্ষের অর্ধে বল ধরে রাখা, নিরবচ্ছিন্ন চাপ সৃষ্টি করা এবং প্রতিপক্ষকে দম বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে ফেলে দেওয়ার ক্ষমতা সত্যিই অসাধারণ। দেশমকে অভিনন্দন, দলকে অভিনন্দন, সমর্থকদেরও অভিনন্দন।’
এছাড়া অঁরি আরও বলেন, ‘আমি টেলিভিশনে ছিলাম, সেখান থেকে এই উচ্ছ্বাস দেখেছি। আশা করি, এটি দীর্ঘদিন ধরে চলবে। এমন একটি দলকে দেখে সত্যিই হৃদয় ভরে যায়। তবে আমরা এখনো কেবল সেমিফাইনালে উঠেছি। অবশ্যই এটি দারুণ অর্জন। কিন্তু আমি যখন বলছি, আমরা এখনো শুধু সেমিফাইনালে, তার কারণ আমরা শেষ পর্যন্ত যেতে চাই।’
এই আবেগঘন সফরটি অঁরি ও মাঝমাঠের খেলোয়াড় মানু কোনের পুনর্মিলনের উপলক্ষও হয়ে ওঠে। ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে রৌপ্যজয়ী দলের কোচ থাকাকালে কোনে ছিলেন অঁরির অন্যতম ভরসার খেলোয়াড়।
কোনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন অঁরি। পাশাপাশি মাইকেল অলিসের জার্সিও সংগ্রহ করেন। সাবেক ফরাসি স্ট্রাইকার আন্দ্রে-পিয়ের জিনিয়াককে সঙ্গে নিয়ে তিনি খেলোয়াড়দের আত্মতুষ্টিতে না ভুগে বিশ্বকাপ ট্রফিটি প্যারিসে ফিরিয়ে আনার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
কোনেকে আলাদাভাবে প্রশংসা করে অঁরি বলেন, ‘আজ আমি সত্যিকারের মানুকে দেখেছি।’
এবার ফ্রান্সের সব মনোযোগ স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচে। দেশমের দল দুর্দান্ত ছন্দে থাকলেও অঁরির প্রশংসা পাওয়া আক্রমণের ধার এবং বল হারানোর পর দ্রুত রক্ষণে ফেরার শৃঙ্খলাই স্পেনের বিপক্ষে তাদের সাফল্যের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হতে পারে।
ফাইনালে ওঠার বিশাল লক্ষ্য এবং সমর্থকদের বিপুল প্রত্যাশা আগামী কয়েক দিনে অধিনায়ক এমবাপে ও তার সতীর্থদের জন্য যেমন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে, তেমনি বাড়তি চাপও তৈরি করবে।
আরএএইচইউএল/আইএইচএস/








