২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল জাতীয় দলের অভিযান শুধু মাঠের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ নয়, এর আর্থিক প্রভাবও রয়েছে। ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপার লক্ষ্যে এগিয়ে চলার পাশাপাশি খেলোয়াড়দের পাওয়া হলুদ কার্ডের কারণে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনকে (সিবিএফ) ফিফার আরোপিত জরিমানাও দিতে হচ্ছে।
প্রতি হলুদ কার্ডের জন্য প্রায় ১৫ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকার বেশি টাকা জরিমানা করা হয়। ফিফার শৃঙ্খলা বিধির ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিশ্বকাপে কোনো খেলোয়াড় হলুদ কার্ড পেলে সংশ্লিষ্ট জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে ১০,০০০ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা দিতে হয়। এবার থেকেই কার্যকর হয়েছে এই নিয়ম।
বিধিমালায় আরও যেসব আর্থিক জরিমানার কথা উল্লেখ রয়েছে:
• হলুদ কার্ড (সতর্কবার্তা): ১০,০০০ সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ১৫,৩৪,০৬৬ টাকা)
• দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে লাল কার্ড: ১৫,০০০ সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ২৩,০১,০৯৯ টাকা)
• সরাসরি লাল কার্ড: ২০,০০০ সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ৩০,৬৮,১৩২ টাকা)
রাউন্ড অব ১৬-এ ওঠার আগ পর্যন্ত ব্রাজিল জাতীয় দল মোট ৭টি হলুদ কার্ড পেয়েছে। এর ফলে সিবিএফকে ৭০,০০০ সুইস ফ্রাঁ অর্থাৎ বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ টাকারও বেশি টাকা জরিমানা দিতে হয়েছে।
এই জরিমানাগুলো ফিফার শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে দিতে হয়। এগুলো মাঠের পারফরম্যান্সের জন্য পাওয়া পুরস্কারের অর্থ থেকে কাটা হয় না।
কোন ম্যাচে কারা হলুদ কার্ড পেয়েছেন?
গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল মোট ৫টি হলুদ কার্ড পায়।
• মরক্কোর বিপক্ষে: ইবানিয়েজ ও কাসেমিরো
• হাইতির বিপক্ষে: ডগলাস সান্তোস
• স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে: দানিলো ও ফাবিনিহো
রাউন্ড অব ৩২-এ জাপানের বিপক্ষে ম্যাচে আরও ২টি হলুদ কার্ড দেখেন কাসেমিরো ও দানিলো।
হলুদ কার্ড পেলে তাদেরকে রাউন্ড অব ১৬ মিস করতে হবে না৷ এই হলুদ কার্ডগুলোর কারণে খেলোয়াড়দের রাউন্ড অব ১৬-র ম্যাচে খেলতে কোনো বাধা নেই। ফিফার এই শাস্তি শুধুমাত্র আর্থিক।
তবে দানিলো ও কাসেমিরো এখন এক হলুদ কার্ড দূরে রয়েছেন নিষেধাজ্ঞা থেকে। তারা যদি রাউন্ড অব ১৬ বা কোয়ার্টার ফাইনালে আরেকটি হলুদ কার্ড পান, তাহলে পরবর্তী ম্যাচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হবেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন নিয়ম অনুযায়ী ৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপ ফরম্যাটের কারণে ফিফা হলুদ কার্ডের নিয়মেও পরিবর্তন এনেছে। সদস্য ফেডারেশনগুলোর অনুরোধে সংস্থাটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পর এবং কোয়ার্টার ফাইনালের পর হলুদ কার্ডের হিসাব মুছে ফেলা হবে।
অর্থাৎ, নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার সময় সব খেলোয়াড় নতুনভাবে শুরু করবে। এরপর রাউন্ড অব ৩২ থেকে রাউন্ড অব ১৬-এর মধ্যে কোনো খেলোয়াড় দুটি হলুদ কার্ড পেলে সম্ভাব্য কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারবেন না।
আর ব্রাজিল যদি কোয়ার্টার ফাইনাল পার হয়ে সেমিফাইনালে ওঠে, তাহলে কোয়ার্টার ফাইনালের পর সব হলুদ কার্ডের হিসাব আবারও মুছে যাবে। ফলে আগের রাউন্ডে পাওয়া হলুদ কার্ডের কারণে কোনো খেলোয়াড়কে সেমিফাইনাল মিস করতে হবে না।
আরআর/এমএমআর








