জস বাটলার বুধবার পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে কাইরন পোলার্ডকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পরই (বাটলার ১৪৮৩৩, পোলার্ড ১৪৮০৩) তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। কারণ বাটলার তখন খেলছিলেন দ্য হান্ড্রেডে, যেখানে ২০ ওভারের পরিবর্তে প্রতি ইনিংসে ১০০ বল খেলা হয়। তাহলে সেই ম্যাচের রান কীভাবে তার টি-টোয়েন্টি রেকর্ডে যোগ হলো?
একই প্রশ্ন তুলেছিলেন ক্রিস গেইলও। টি-টোয়েন্টিতে দীর্ঘ ১২ বছর সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন গেইল। চলতি বছর তাকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠেছিলেন পোলার্ড। বাটলার পোলার্ডকে পেছনে ফেলতেই ক্রিকইনফোর ইনস্টাগ্রাম পোস্টে গেইল প্রশ্ন করেন, ‘হান্ড্রেডের পরিসংখ্যানও কি টি-টোয়েন্টির সঙ্গে যোগ করা হয়?’
আসলে বিষয়টি নতুন কিছু নয়। ২০২১ সালে দ্য হান্ড্রেড চালুর প্রথম আসর থেকেই এই প্রতিযোগিতার পুরুষ ও নারী বিভাগের পরিসংখ্যান খেলোয়াড়দের টি-টোয়েন্টি রেকর্ডের অংশ হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে।
হান্ড্রেডের রান টি-টোয়েন্টিতে যোগ হয় কেন?
দ্য হান্ড্রেডের নিয়ম টি-টোয়েন্টির চেয়ে কিছুটা আলাদা। এখানে এক প্রান্ত থেকেই পরপর বল করা যায় এবং একজন বোলার টানা দুই সেটও করতে পারেন। তবে মূল কাঠামোর দিক থেকে দুই ফরম্যাটের মধ্যে বড় মিল রয়েছে।
দ্য হান্ড্রেডে প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ১০০ বল খেলে। অর্থাৎ পাঁচ বলের ওভার হিসেবে হিসাব করলে প্রতিটি ইনিংস মূলত ২০ ওভারের সমান।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ‘অফিশিয়াল ক্রিকেট’ শ্রেণিবিন্যাসেও বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। ‘লিস্ট এ টি-টোয়েন্টি’ মর্যাদা পেতে পারে এমন ম্যাচের ক্ষেত্রে মূল শর্তগুলোর একটি হলো-একদিনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রতি দল এক ইনিংস খেলবে এবং সর্বোচ্চ ২০ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করবে।
আইসিসির একই নথির অ্যাপেন্ডিক্স বি-তে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিত পুরুষ ও নারী-উভয় দ্য হান্ড্রেডকেই ‘লিস্ট এ টি-টোয়েন্টি’ প্রতিযোগিতার তালিকায় রাখা হয়েছে।
আইসিসি ও ইংল্যান্ড বোর্ডের সম্মতিতেই সিদ্ধান্ত
অ্যাসোসিয়েশন অব ক্রিকেট স্ট্যাটিস্টিশিয়ানস অ্যান্ড হিস্টোরিয়ানসের সভাপতি ডেভিড কেন্ডিক্স জানিয়েছেন, দ্য হান্ড্রেডের পরিসংখ্যান টি-টোয়েন্টির সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্তটি পরিকল্পিতভাবেই নেওয়া হয়েছিল।
কেন্ডিক্সের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্য হান্ড্রেড চালুর সময় ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড চেয়েছিল, নতুন প্রতিযোগিতাটিও যেন ‘অফিশিয়াল ক্রিকেট’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। কারণ তারা এমন কোনো প্রতিযোগিতা চাইছিল না, যার পরিসংখ্যান ক্রিকেটের অফিসিয়াল রেকর্ডে গণনা হবে না।
একই সঙ্গে আইসিসিও দ্য হান্ড্রেডকে ক্রিকেটের সম্পূর্ণ নতুন কোনো চতুর্থ ফরম্যাট হিসেবে আলাদা শ্রেণিতে ফেলতে চায়নি। কারণ প্রতিযোগিতাটি কেবল একটি দেশেই আয়োজন করা হচ্ছে এবং টি-টোয়েন্টির চেয়ে মাত্র ২০ বল কম খেলা হচ্ছে।
এই বাস্তবতায় দ্য হান্ড্রেডকে টি-টোয়েন্টির আওতায় রাখাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
কেন্ডিক্স আরও জানিয়েছেন, কেউ চাইলে দ্য হান্ড্রেডের পরিসংখ্যান আলাদাভাবেও বিবেচনা করতে পারেন। তবে অফিসিয়াল রেকর্ডে এগুলো টি-টোয়েন্টির অংশ হিসেবেই থাকবে।
তার যুক্তি, ক্রিকেটে এর আগেও একই ধরনের উদাহরণ রয়েছে। লিস্ট এ ক্রিকেটে বিভিন্ন সময়ে ম্যাচের দৈর্ঘ্য ৫৫, ৬০ কিংবা ৬৫ ওভার হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কোনো ম্যাচ ৫০ ওভারের চেয়েও কম দৈর্ঘ্যের হতে পারে। তবুও সেগুলো একই লিস্ট এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
এমনকি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও তিন, চার কিংবা পাঁচ দিনের ম্যাচ রয়েছে এবং বিভিন্ন সময় ওভারে চার থেকে আটটি পর্যন্ত বল ব্যবহারের নজিরও আছে।
তাই ২০ ওভারে ছয় বলের পরিবর্তে ২০ ওভারে পাঁচ বল-এই পার্থক্যকে আলাদা ফরম্যাট তৈরির মতো বড় বিষয় হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করেন পরিসংখ্যানবিদরা।
হান্ড্রেড বাদ দিলে রেকর্ড বাটলারের নয়
দ্য হান্ড্রেডের রান যদি টি-টোয়েন্টি রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হয়, তাহলে এখনো শীর্ষে থাকতেন ক্রিস গেইল।
সে ক্ষেত্রে গেইল পোলার্ডের চেয়ে ২৯ রান এগিয়ে থাকতেন। আর বাটলার থাকতেন গেইলের চেয়ে ৯২১ রান পিছনে। তবে এই হিসাবেও বৃষ্টিতে সংক্ষিপ্ত হওয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলোর রান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অর্থাৎ হান্ড্রেডের রান বাদ দিলে টি-টোয়েন্টির সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকাই পুরোপুরি বদলে যাবে।
বাটলারের রেকর্ড কতদিন টিকবে?
পোলার্ডকে ছাড়িয়ে ইতিহাস গড়ার পর বাটলার নিজেই ভবিষ্যৎ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তার মতে, একদিন ভারতের তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন।
তবে বাটলারের শীর্ষস্থান খুব বেশি দিন নিরাপদ থাকবে কি না, সেটিও প্রশ্ন। আসন্ন ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে খেলেই পোলার্ড আবার তাকে পেছনে ফেলতে পারেন।
এদিকে বর্তমানে তালিকার ১৭ নম্বরে থাকা নিকোলাস পুরানও আগামী বছরগুলোতে বাটলারের রেকর্ডের জন্য বড় হুমকি হতে পারেন।
এমএমআর








