গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের দুই নারী ও এক পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার বিশ্বাসপাড়া এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরে আজ শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সায়মন হোসেন বাদী হয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা করেছেন।
ভুক্তভোগী সায়মন হোসেন (২১) ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার দরাতপুর এলাকার আবুল খায়েরের ছেলে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন আশুলিয়া থানার কবিরপুর এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে সজীব হোসেন (২৫), কাশিমপুর থানার পশ্চিম এনায়েতপুর এলাকার মেয়ে (২৩) এবং পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার ভাদুরতলী এলাকার মেয়ে (২৩)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক দুই নারী এবং পুলিশ সদস্য সজীব দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন উপায়ে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতেন। পরে কৌশলে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে জিম্মি করে গোপন ছবি ও ভিডিও ধারণের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্বাসপাড়া এলাকার মদিনা নামে একটি ভবনের সপ্তম তলায় নিজের কক্ষে সায়মন নামে এক ব্যক্তিকে ডেকে নেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কক্ষে প্রবেশের পর দরজা বন্ধ করে তরুণীদের একজন ও তাঁর স্বামী পুলিশ সদস্য সজীব সায়মনকে মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে সায়মন কক্ষের বারান্দায় গিয়ে দরজা আটকে দিয়ে চিৎকার করে সাহায্য চান। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় সজীব উল্টো সায়মনের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ তোলেন। পরে সজীব জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে কালিয়াকৈর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার্বিক পরিস্থিতি তল্লাশি করে ঘটনাটির সত্যতা উন্মোচন করে এবং চারজনকেই আটক করে।
পুলিশ জানায়, পরবর্তী সময়ে পুলিশ সদস্য সজীবের কাছ থেকে একটি পুলিশের হ্যান্ডকাফ ও একটি পুলিশের কটি (ভেস্ট) উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন তল্লাশি করে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য এবং ব্ল্যাকমেইলিং-সংক্রান্ত বিভিন্ন আপত্তিকর তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম বলেন, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








