বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী বাণিজ্যিক ট্যাংকারে আবারও হামলা হয়েছে। গত সোমবার গভীর রাত ও মঙ্গলবার ভোরে এসব হামলা হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস বলছে, বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

অনুমোদন ছাড়া হরমুজে জাহাজের যাতায়াত নিয়ে তেহরানের হুঁশিয়ারির মধ্যে এ হামলা হলো। সমঝোতা চুক্তির ভিত্তিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দুই মাসের যুদ্ধবিরতি চলছে। এ অন্তর্বর্তী সময়ে দুই পক্ষকে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। এ প্রেক্ষাপটে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মঙ্গলবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার হুমকি দিতে থাকলে তারা চুক্তির জন্য আর কোনো আলোচনায় অংশ নেবেন না।

এর আগে হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরের নিকটে ইরানের বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। জবাবে ইরানও কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি সামাজিকমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, কাতারের একটি তেলবাহী ট্যাংকার মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় হরমুজের ওমান-ঘেঁষা পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

এর আগে যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস বা ইউকেএমটিও কেন্দ্র জানায়, ওমানের উপকূলে তাদের একটি ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে। এতে আগুন ধরে যায়। দক্ষিণ দিকে যাওয়ার সময় ট্যাংকারের বাম পাশে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানে।

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ শ্রদ্ধার আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে গত রোববার ছয়টি তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজকে ওমানের দিকের পথ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে-ডিজিটাল শনাক্তকরণ এড়াতে অনেক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখছে। পশ্চিমা নৌ-কর্তৃপক্ষ এ জলপথে ঝুঁকির মাত্রাকে এখন ‘উল্লেখযোগ্য’ বলে বর্ণনা করছে। সেই সঙ্গে প্রণালির মধ্যাঞ্চলে মাইন পাতা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে তারা।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, গত শুক্র ও শনিবার আটটি জাহাজকে ওমানের পথ ব্যবহারের চেষ্টার সময় দিক পরিবর্তন (ইউ-টার্ন) বা ভিন্ন পথ বেছে নিতে দেখা যায়। এর মধ্যে চারটি জাহাজ পরে ইরান-প্রান্তের পথের দিকে মোড় নেয় এবং প্রণালি থেকে বেরিয়ে যায়।

ইরানি বাহিনী রেডিও বার্তার মাধ্যমে জাহাজগুলোকে বারবার সতর্ক করেছে-তারা যেন তেহরানের অনুমতি ছাড়া এ জলপথ দিয়ে চলাচল না করে। পাশাপাশি যেসব জাহাজ যাত্রা অব্যাহত রেখেছে, তাদের ওপর গুলিও চালিয়েছে।

তবে এসবের মধ্যেও হরমুজে অনেকটাই বেড়েছে জাহাজ চলাচল। বিশ্বব্যাপী সমুদ্রে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষক সংস্থা ক্যাপলারের উদ্ধৃতি দিয়ে আলজাজিরা জানায়, গত ৩ থেকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে হরমুজে ১০৮টি জাহাজ চলাচল করেছে।

হুমকি দিলে আলোচনা নয়-আরাঘচি : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি অব্যাহত থাকলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা শুরু হবে না। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ খামেনি ও তার আদর্শের প্রতি সম্মান জানাতে লাখ লাখ গর্বিত ইরানি ঐক্যবদ্ধভাবে সমবেত হয়েছেন। কোনো হুমকিই তাদের কিংবা আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনীকে বিচলিত করতে পারবে না।’ তিনি বলেন, ‘সমঝোতা স্মারকের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদটি স্পষ্ট-হুমকি অব্যাহত থাকলে চূড়ান্ত চুক্তিবিষয়ক আলোচনা শুরু হবে না। নিজেদের স্বাক্ষরের প্রতি সম্মান দেখান।’

গাজা ও লেবাননে নৃশংসতা অব্যাহত : ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি করলেও ফিলিস্তিনের গাজা ও লেবাননে গণহত্যা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। মিউল ইস্ট আই জানায়, মঙ্গলবার ইসরাইলের হামলায় গাজায় দুজন নিহত ও শিশুসহ ছয়জন আহত হন।

মঙ্গলবার বিবিসি জানায়, লেবাননে ইসরাইলের ড্রোন হামলায় কমপক্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। এ অবস্থায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন-লেবাননের খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীরা ইসরাইলের সঙ্গে যোগ দিতে চায়। এ দাবি অস্বীকার করে দেশটির খ্রিষ্টানরা বলেছেন, তারা তাদের লেবানিজ পরিচয় নিয়ে গর্বিত।