জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেলের ভাড়া বকেয়া থাকার অভিযোগের ঘটনায় নতুন করে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খান। তার দাবি, অভিযোগ পাওয়ার পরও এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এদিকে এনসিপি বলছে, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।

বুধবার (১ জুলাই) ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান এনসিপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে আবাসিক হোটেলের বকেয়া পরিশোধ না করা, অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং দলীয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট দেন।

ওই ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান দাবি করেন, “নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেন বরাবর অভিযোগ দিয়েও কোনো বিচার পায়নি আবাসিক হোটেল কর্তৃপক্ষ। তাদের কাছে বিভিন্ন অনৈতিক ও অশ্লীল কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ও সিসিটিভি ফুটেজও বিচারের জন্য দেওয়া হয়। কিন্তু হোটেলের বকেয়া ১১ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ টাকা পরিশোধ না করে পালিয়ে যায় এনসিপির ২১ জন নেতা।”

তিনি বলেন, “এই চক্রটির নেতৃত্ব দেন এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব এস এম শাহরিয়ার। তিনি গত কোরবানির ঈদে গোলাপবাগ গরুর হাট থেকে এনসিপির নেতাকর্মীদের কাছ থেকে নেওয়া প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।”

রাশেদ খান তার পোস্টে এস এম শাহরিয়ারের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষ্য, “আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত সে ঢাকা-৫ আসনের আওয়ামী লীগের মনু এমপির পিও ছিল, আর তার বাবা ছিলেন মনু এমপির পিএস। গণঅভ্যুত্থানের পরে সে হয়ে গেছে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও মহানগরের দায়িত্বশীল নেতা। শুনলাম, আওয়ামী লীগের সম্পদ কোথায় আছে, কীভাবে সেগুলো আহরণ করা যায়, সেজন্য তাকে সোর্স হিসেবে দলে বড় জায়গা করে দিয়েছে শীর্ষ নেতারা।”

রাশেদের ফেসবুক পোস্ট

বিএনপির এই নেতা বলেন, “এটাই হলো এনসিপির নতুন বন্দোবস্ত। জুলাই পালন করতে শীর্ষ নেতারা শহীদদের কবরে যাবে, আবার অপরাধীদেরও দলে পালবে। অথচ এসব নেতাদের বহিষ্কার করে তারপর জুলাই শহীদদের কবরে গেলে তাদের আত্মা শান্তি পেত।”

অভিযোগ প্রমাণিত হলে বহিষ্কার দাবি এ বিষয়ে বিএনপি নেতা রাশেদ খান বুধবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে এনসিপি একটি নতুন রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও দলটির ভেতরে একের পর এক বিতর্কিত ব্যক্তির উপস্থিতি ও বিভিন্ন অভিযোগ সামনে আসছে। দলটি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থনের পরিবেশে বেড়ে উঠেছে। সেটি নিয়ে আমাদের ভিন্নমত থাকতে পারে, তবে আজকের মূল প্রশ্ন হলো কেন দলটির ভেতরে অভিযোগ ও বিতর্কে জড়িত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে?”

তিনি বলেন, “যদি অপরাধপ্রবণ বা বিতর্কিত ব্যক্তিরা এনসিপিকে কেন্দ্র করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের সুযোগ পায়, তাহলে দলটি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারবে না। আমি মনে করি, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের উচিত দলের ভেতরে থাকা বিতর্কিত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা উচিত।”

রাশেদ খান বলেন, “যেভাবে এনসিপির কিছু নেতার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ ও অনিয়মের তথ্য সামনে আসছে, তাতে শুধু দলের ভাবমূর্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। কারণ গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী তরুণদের একটি অংশের নেতৃত্বে গঠিত দল হিসেবে এনসিপির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সেই আন্দোলনের ভাবমূর্তিও জড়িত।”

এনসিপির বক্তব্য এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটি প্রধান সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “বিষয়টা আমাদের নজরে এসেছে। তদন্ত চলমান আছে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আপনাদেরকে জানাব।”

হোটেল কর্তৃপক্ষ যা বলল হোটেল পীর ইয়েমেনী ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার রুহুল আমিন রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “এনসিপির পরিচয়ে তারা দুই রুমে ছিল। তাদের সাথে আমি কয়েকবার কথা বলতে চেয়েছি কিন্তু তারা দেখা করেনি। নির্বাচনের পরে তারা আমাদের টাকা পয়সা না দিয়ে চলে গেছে।”

এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা আমাদের বোর্ড মিটিং ডেকে তারপর সিদ্ধান্ত নেব।”