লিওনেল সবসময়ে ভক্ত অনুরাগীদের নানা রকম ভালোবাসায় সিক্ত করেন। ইন্টার মিয়ামিতে ক্লাব পর্যায়ে থাকাকালীন প্রায়শই মাঠে ভক্তদের ঠুকে তাকে জড়িয়ে ধরার ঘটনা ঘটতো। মেসিও সেগুলোকে খুব ভালোভাবে সামনে তাদের মনের আবদার একটা ছবি তোলার পিপাসা মিটিয়ে দিতেন। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়েও একই কাজ করলেন মেসি তবে এবার মাঠে নয়, মাঠের বাইরে।
আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে এক হৃদয়ছোঁয়া মুহূর্তের জন্ম দেন লিওনেল মেসি। হুইলচেয়ারে থাকা ভেনেজুয়েলান সাংবাদিক মানু গুতিয়েরেসের সাক্ষাৎকারের জন্য কোনো তাড়াহুড়ো না করে থেমে যান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর তিনি ধৈর্য ধরে সাংবাদিকের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেন।
নিজের ঝুলিতে যোগ হওয়া অসংখ্য রেকর্ড প্রসঙ্গে মেসি বিনয়ী কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আসলে এগুলোর হিসাব রাখিনি। ম্যাচ খেলতে খেলতেই সব হয়েছে। ঈশ্বরের কৃপায় দল এগিয়ে যাচ্ছে, লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এই জয়ে আমরা খুবই আনন্দিত এবং লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছি।’
ম্যাচে কীভাবে তিনি খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো জায়গা খুঁজে পেয়েছিলেন, সে বিষয়ে মেসি বলেন, ‘মাঝমাঠে খেলাটা খুব কঠিন ছিল। লাউতারো মার্তিনেজ মাঠে নামার পর মাঝখানে অনেক ভিড় হয়ে গিয়েছিল। তাই আমি ডান দিকে কিছুটা ফাঁকা জায়গা খুঁজে পাই। সেখান থেকেই আমরা একটি গোল শোধ করতে সক্ষম হই, আর সেটা আমাকে আনন্দ দিয়েছে।’
সবশেষে ম্যাচ শেষে নিজের চোখের জল নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, ‘আমরা যখন ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিলাম, তখন পরিস্থিতি খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল। জানতাম ফিরে আসা সহজ হবে না। শেষ বাঁশির পর কান্নাটা ছিল সব চাপ থেকে মুক্তির অনুভূতি। আমরা বাড়ি ফিরতে চাইনি। আমরা এই প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে যাওয়ার যোগ্য ছিলাম।’
মেসির এই স্বীকারোক্তি যেন ফুটিয়ে তুলেছে, ইতিহাস গড়া এই প্রত্যাবর্তনের আগে কতটা কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে।
আরআর/আইএন








