ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে (ইবি) উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, শিল্প-অ্যাকাডেমিয়া মেলবন্ধন ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মমুখী শিক্ষায় এগিয়ে নিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ইউজিসির নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমান।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব পরিকল্পনার কথা জানান উপাচার্য। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইদ্রিস আলী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় উপাচার্য জানান, সনাতন ও সনদনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সরাসরি কর্মসংস্থানের উপযোগী করতে ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া কোলাবোরেশনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আগামী ১২ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প-উদ্যোক্তাদের যৌথ অংশগ্রহণে একটি বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এরই মধ্যে এ জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে, শিল্পমালিকেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ খুঁজে নিতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ও কারিগরি—সব অনুষদ ও বিভাগের জন্য এ নীতি কার্যকর হবে। বিভাগগুলো নিজ নিজ ক্ষেত্র অনুযায়ী ইন্টার্নশিপের কাঠামো তৈরি করবে।
একাডেমিক মান নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রম জোরদারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও স্টার্টআপ কার্যক্রম বাড়াতে গঠন করা হয়েছে ‘সেন্ট্রাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার’। প্রস্তাবিত এই হাবের চূড়ান্ত রূপরেখা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারের কাছে পাঠানো হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেন সেল পুনর্গঠন ও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হচ্ছে ইউনিক ‘ইডিইউ আইডি’ (Edu ID)। এর মাধ্যমে ভর্তি থেকে শুরু করে সার্টিফিকেট অর্জন পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা যাবতীয় ডিজিটাল সেবা ও তথ্য এক ছাতার নিচে পাবেন।
ক্যাম্পাসে ভাষা শিক্ষার সুযোগ বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদনে স্থাপন করা হচ্ছে ‘আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট’। প্রাথমিক পর্যায়ে সেখানে চাইনিজ ও জাপানিজসহ চারটি আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি ডিবেটিং সোসাইটি ও যুব প্ল্যাটফর্মের যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মুক্ত চিন্তাচর্চা ও সফট স্কিল উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক সংকট পূরণ ও পাঠদানের মান বাড়াতে নতুন শিক্ষকদের ফাউন্ডেশন ট্রেনিং নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের শিক্ষাদান কার্যক্রমে যুক্ত রাখতে ‘সুপারনিউমারারি’ শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাবও রয়েছে সামগ্রিক কর্মপরিকল্পনায়।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিবেশ সুসংহত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। র্যাগিং ও যৌন হয়রানি রোধ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় প্রশাসন নতুন করে ‘স্টুডেন্ট কোড অব কন্ডাক্ট’ প্রণয়ন করছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো ক্যাম্পাসকে সিসিটিভির আওতায় আনা, আনসার সদস্য বাড়ানো, পর্যাপ্ত লাইটিং এবং ঝুঁকিপূর্ণ পুকুরগুলোতে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী নির্দেশনা অমান্য করে দুর্ঘটনায় পড়লে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
একইসঙ্গে, ক্যাম্পাসের পুকুর ও লেকগুলো সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগও চলছে। উপাচার্য আরো জানান, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ও একাডেমিক উন্নয়নে যুক্ত করতে অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্মকে আরো শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া চলছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ও অর্জন বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ।








