‘গত দুই বছর ধরে ইলিশের প্রজনন হার কম তাই ইলিশের দাম বেড়ে গেছে’—কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ এমন মন্তব্য করেছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
এই দাবিতে কয়েকটি পোস্ট আছে এখানে, এখানে এবং এখানে।
‘তাহলে ইলিশের প্রজননের জন্য গান-বাজনা বা অন্য কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা করা যায় না?’ ক্যাপশনে গত ১৯ জুলাই ‘Supporters of Bangladesh Awami League’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপসহ একাধিক পেজ ও আইডি থেকে ফটোকার্ডটি শেয়ার করা হয়। শেয়ার করা পোস্টগুলোর কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী দাবিটিকে সত্য মনে করে কমেন্ট করছেন।
প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদের ছবির সঙ্গে আলোচিত মন্তব্যটি জুড়ে দেওয়া হলেও কার্ডটিতে তিনি কবে, কোথায় এমন মন্তব্য করেছেন তার কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে জাতীয় কোনো গণমাধ্যমেও মন্ত্রীর এমন কোনো বক্তব্য সংবলিত কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তবে ‘জাটকা সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী’ শিরোনামে বণিক বার্তায় এবং ‘ইলিশ রপ্তানির সক্ষমতা বাড়াতে হবে: কৃষিমন্ত্রী’ শিরোনামে দৈনিক যুগান্তরসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে মন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মসূচির বক্তব্যসংবলিত প্রতিবেদন পাওয়া গেলেও কোনোটিতেই আলোচিত বক্তব্যের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রচারিত ফটোকার্ডের সত্যতা যাচাইয়ে আরও অনুসন্ধানে গত ১৯ জুলাই ‘Gupto TV’ নামের একটি ফেসবুক পেজে আলোচিত দাবিতে সম্ভাব্য প্রথম পোস্টটি পাওয়া যায়। ওই পেজটি পর্যবেক্ষণে করে দেখা যায়, এটি মূলত একটি ‘সার্কাজম’ বা স্যাটায়ার পেজ। পেজটির প্রোফাইল এবং পূর্ববর্তী পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয় যে, তারা নিয়মিতভাবে সমসাময়িক বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু ও ব্যক্তিত্বদের নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক ও কাল্পনিক ফটোকার্ড তৈরি করে থাকে।
এ ছাড়া কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজেও আলোচিত দাবিটিকে সমর্থন করে এমন পোস্ট পাওয়া যায়নি।
‘গত দুই বছর ধরে ইলিশের প্রজনন হার কম তাই ইলিশের দাম বেড়ে গেছে’—কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ এমন কোনো মন্তব্য করেননি। মূলত একটি স্যাটায়ার পেজের তৈরি ফটোকার্ডকে সত্য ভেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।








