চলমান ৪৮ দেশের ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সেলেসাওরা। ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির করা নাটকীয় গোলে জয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের। অন্য দিকে এই পরাজয়ের মাধ্যমে আরও একবার নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচ থেকেই বিদায় নিতে হলো জাপানকে। ম্যাচের প্রথমার্ধের ২৯ মিনিটে কাইশো সানোর গোলে লিড নিয়ে ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দেয় জাপান। প্রথমার্ধের শেষ দিকে পায়ে চোট পাওয়া লুকাস পাকেতাকে তুলে নেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি, যার বদলে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে মাঠে নামেন তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিক। তবে বেঞ্চে থাকা নেইমার জুনিয়রের মাঠে নামার অপেক্ষা আরও বাড়ে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ধার বাড়ায় ব্রাজিল। ৫১ মিনিটে দানিলোর ক্রসে ব্রুনো গিমারায়েসের জোরাল হেড দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন জাপান গোলরক্ষক জায়ন সুজুকি। তবে বেশিক্ষণ জাপানের রক্ষণভাগ সামলানো সম্ভব হয়নি। ৫৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েসের ক্রস থেকে চমৎকার হেডে গোল করে ব্রাজিলকে ১-১ সমতায় ফেরান অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার কাসেমিরো। এর আগে ৫৩ মিনিটে তার আরও একটি জোরাল হেড জাপানের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ফিরে এসেছিল। ম্যাচের দ্বিতীয় হাইড্রেশন বিরতির পর ৬৫ মিনিটে গ্রুপ পর্বের তারকা মাতেউস কুনিয়াকে তুলে মাঠে নামানো হয় গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লিকে। ম্যাচের অন্যতম সেরা সুযোগটি আসে এর কিছু পরেই, যখন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের চমৎকার ডান পায়ের শট প্রথমে গোলরক্ষক সুজুকির গ্লাভস ও পরে গোলবারে লেগে প্রতিহত হয়। ৭৬ মিনিটে আবার আক্রমণে ওঠে ব্রাজিল, কিন্তু মার্টিনেল্লির শট গোলবারের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৭৮ মিনিটে জাপান দলে জোড়া পরিবর্তন এনে জুনিয়া ইতো ও দাইচি কামাদাকে তুলে আও তানাকা ও শুতো মাচিনোকে নামানো হয়। ৮৩ মিনিটে দানিলোকে ফাউল করার অপরাধে রেফারি মাউরিজিও মারিয়ানির হলুদ কার্ড দেখেন জাপানের বদলি খেলোয়াড় জান্নোসুকে সুজুকি। ম্যাচের ৯০ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের আরও একটি বাঁকানো শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করে জাপানি রক্ষণভাগ। নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়াবে, ঠিক তখনই ইনজুরি টাইমে নাটকীয় মোড় নেয় খেলা। ৯০ মিনিট শেষে পায়ের পেশিতে অস্বস্তি বোধ করায় গোলদাতা কাসেমিরোকে তুলে ফাবিনহোকে মাঠে নামান আনচেলত্তি। যোগ করা ৬ মিনিটের ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে এন্দ্রিক জাপানের ডি-বক্সে চমৎকার কারিকুরি দেখালেও কর্নারের বিনিময়ে তা প্রতিহত হয়। অবশেষে ইনজুরি টাইমের ষষ্ঠ মিনিটে, অর্থাৎ ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে ডি-বক্সের মুখ থেকে ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে মার্টিনেল্লিকে বল বাড়িয়ে দেন ব্রুনো গিমারায়েস। ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে জাপানের জাল কাঁপিয়ে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন মার্টিনেল্লি। এই গোলের পর ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল, যেখানে শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হবে নরওয়ে ও আইভরি কোস্ট ম্যাচের জয়ী দল।
রাজনীতি
ইনজুরি টাইমের নাটকীয়তায় জাপানকে হারিয়ে ব্রাজিলের রোমাঞ্চকর জয়

শেয়ার করুন






