দীর্ঘ ৬০ বছরের শিরোপাখরা ঘোচানোর দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর ইংল্যান্ড। প্রতি আসরের আগে ‘ফুটবল এবার ঘরে ফিরবে’ এই আশায় বুক বাঁধেন ইংলিশ সমর্থকরা। বারবার সেই স্বপ্ন থেমে যায় নকআউটের বাধায়। অধিকাংশ সময় কোয়ার্টার ফাইনালে, ২০১৮ সালে সেমিফাইনালে উঠলেও শিরোপা অধরা রয়ে যায়। এবারও একই লক্ষ্য-বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট। সে পথে বড় বাধা নরওয়ে। যার সবচেয়ে বড় তারকা আর্লিং হলান্ডের জন্ম ইংল্যান্ডে। ক্লাব ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল অধ্যায়ও সেখানেই। এই লড়াই যে সহজ হবে না সেটা ভালোভাবেই জানে ইংল্যান্ড। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নতুন অধ্যায় লেখার স্বপ্ন দেখছে নরওয়ে। ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতার বিপরীতে আত্মবিশ্বাস আর দুর্দান্ত উত্থানের এই দ্বৈরথ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালকে দিয়েছে ভিন্ন আবহ। আজ ম্যাচ শুরু হবে রাত ৩টায়।
টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড মেক্সিকো সিটির উচ্চতা, প্রতিকূল আবহাওয়া ও স্বাগতিক সমর্থকদের গর্জন সামলে শেষ ষোলোতে ৩-২ গোলের স্মরণীয় জয় তুলে নেয়। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামকে ঘিরে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালের অন্যতম দাবিদার ধরা হচ্ছে। তাদের উদ্বেগ রক্ষণ নিয়ে। সেই দুর্বলতা কাজে লাগাতে প্রস্তুত গোলপিপাসু হলান্ড। প্রথম বিশ্বকাপেই চার ম্যাচে সাত গোল করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার। শেষ ষোলোতে ব্রাজিলের বিপক্ষে তার শেষ মুহূর্তের জোড়া গোল নরওয়েকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে দেয়। ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া হলান্ডের কাছে এই ম্যাচের গুরুত্ব আরও বেশি। তার বাবা আলফ-ইঙ্গে হলান্ড লিডস ইউনাইটেডে খেলেছেন। বর্তমানে হলান্ড ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার সিটির খেলোয়াড়। মায়ামিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘অবশ্যই বিশেষ একটি ম্যাচ। আমি ইংল্যান্ডে খেলি, আমার জন্মও সেখানে। নিজের ক্লাবের সতীর্থদের বিপক্ষেও খেলতে হবে। ম্যাচটি আমার জন্য আলাদা গুরুত্ব বহন করে।’ তিনি বলেন, ‘কিছু দল ফেভারিট। ইংল্যান্ড তাদের মধ্যে একটি। সব চাপ ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ওপরই থাকা উচিত।’
২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে নরওয়ে যে এতদূর যাবে, তারাও কল্পনা করেনি। বিশ্বকাপে নরওয়ের প্রত্যাবর্তন এক উৎসবে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে ভাইকিং পোশাকে ঐতিহ্যবাহী লংশিপের সামনে তোলা দলীয় ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। সেই আবহ আরও জোরালো হয়েছে প্রতিটি জয়ের পর। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেডিয়াম থেকে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার। এমনকি, অসলোর রাস্তায়ও সমর্থকদের ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর সেই উদযাপনে নেতৃত্ব দেন হলান্ডই। ইংল্যান্ড টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও ১৯৬৬ সালের পর কোনো বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিততে পারেনি। সবশেষ দুটি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে হার এবং গত দুই বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল ও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়। এবার শিরোপার অপেক্ষা ঘোচানোর প্রত্যাশা। বুকায়ো সাকা বলেন, ‘আমরা আগেও এই পর্যায়ে এসেছি। কিন্তু যেদিন যে দল ভালো খেলবে, সেই দল জিতবে। আমাদের পুরো মনোযোগ সেদিকেই।’ সবচেয়ে বড় উদ্বেগ রক্ষণ নিয়ে। শেষ ষোলোর ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় জ্যারেল কোয়ানসাহ দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন। রক্ষণভাগের আরেক আস্থা রিস জেমসের হ্যামস্ট্রিং চোট পুরোপুরি সারেনি। এই অস্বস্তির মধ্যেই টুখেলকে সেরা টোটকার সন্ধানে নামতে হচ্ছে।







