আজতেকার গর্জন থেমে গেল শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গে। শুরু হলো গ্যালারির আর্তনাদ। স্বপ্নভঙ্গ হলো স্বাগতিক মেক্সিকোর। ৪০ বছরের দুঃসহ স্মৃতি মুছে দিল ইংল্যান্ড। কান্নায় ভেঙে পড়া গ্যালারির এক পাশে তখন ইংল্যান্ড সমর্থকদের উল্লাস। আক্রমণ-পালটা আক্রমণ, পাঁচ গোল, দুই পেনালটি, এক লাল কার্ড আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় ভরা ম্যাচটি যেন বিশ্বকাপের জন্য লেখা এক নিখুঁত চিত্রনাট্য। মেক্সিকানদের প্রিয় থ্রিলার ‘ইনভিজিবল গেস্ট’র মতো একের পর এক টুইস্টের পর শেষ হাসি হাসল থমাস টুখেলের দল। ৩-২ গোলের অবিস্মরণীয় জয়ে আজতেকার অভিশাপ ভেঙে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিল ইংল্যান্ড। আর মেক্সিকোর মতো তাদের কিংবদন্তি গোলরক্ষক গুইলেরমো ওচোয়াও সমাপ্তি টানলেন নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের। এবার ইংল্যান্ডের সামনে ব্রাজিলকে বিদায় করা নরওয়ে।

সোমবার সকালে আজতেকার গ্যালারিতে কান্নার দৃশ্যের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না ‘এল ত্রি’ সমর্থকরা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে বিশ্বকাপের সবচেয়ে ঐতিহাসিক ভেন্যুগুলোর একটিতে ইংল্যান্ডের কাছে এটি শুধু শেষ ষোলোর ম্যাচ ছিল না। ছিল ইতিহাসের এক অপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তির সুযোগ। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এই আজতেকাতেই দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ ও একক নৈপুণ্যের গোলে বিদায় নিয়েছিল ইংল্যান্ড। ইংলিশদের কাছে সেটি আজও ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত ও বেদনাদায়ক গোলগুলোর একটি। প্রায় চার দশক পর একই মাঠে ফিরে তারা লিখল প্রতিশোধের নতুন গল্প। আর নিজেদের দুর্গে বিশ্বকাপে মাত্র তৃতীয় হারের তিক্ত স্বাদ নিয়ে থামল স্বাগতিক মেক্সিকোর স্বপ্নযাত্রা।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭,৩৫০ ফুট উচ্চতায় খেলার চ্যালেঞ্জ তো ছিলই, তার সঙ্গে যোগ হয় মেক্সিকান সমর্থকদের চাপ। গভীর রাত পর্যন্ত ইংল্যান্ড দলের হোটেলের বাইরে গান, ঢোল আর উল্লাসে ঘুম হারাম করে তোলেন স্বাগতিক সমর্থকরা। আজতেকাকে এমনিতেই বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর ফুটবল দুর্গ বলা হয়, যেখানে দর্শকদের অবিরাম গর্জন প্রতিপক্ষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। নাটকীয়তার শেষ ছিল না ম্যাচ শুরুর আগেও। বজ ঝড় ও টানা বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর শুরু হয় খেলা। তবু ৮৭ হাজারের বেশি দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ আজতেকা যেন পরিণত হয়েছিল এক গর্জনময় আগ্নেয়গিরিতে। ইংল্যান্ডের প্রতিটি পাসে দুয়ো আর মেক্সিকোর প্রতিটি আক্রমণে বজ ধ্বনির মতো উল্লাস। পুরো পরিবেশটাই ছিল বিশ্বকাপের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। প্রথমার্ধে জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে (৩৬ ও ৩৮ মিনিটে) এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচ একপেশে হয়নি। ৪২ মিনিটে হুলিয়ান কিনিয়ুনসের গোলে ব্যবধান কমিয়ে মেক্সিকো জানিয়ে দেয়, নিজেদের মাঠে তারা সহজে হার মানবে না। দ্বিতীয়ার্ধে জ্যারেল কোয়ানসার লাল কার্ডে প্রায় আধা ঘণ্টা ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইংল্যান্ডকে।