বিশ্বকাপের আলো ঝলমলে মঞ্চে কেউ গোল করেন, কেউ ট্রফি জিতে হন কিংবদন্তি। কেউ আবার বল পায়ে ম্যাচের গল্প বদলে দেন। জুড বেলিংহামের ছোঁয়ায় বদলে যায় ছন্দ, সতীর্থদের আত্মবিশ্বাস, স্বপ্ন। ২৩ বছর বয়সে তাকে ঘিরে ইংল্যান্ডের নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন। বেলিংহামের ফুটবল-যাত্রা শুরু স্থানীয় ক্লাব বার্মিংহাম সিটিতে। অল্প বয়সে তার প্রতিভা সবাইকে মুগ্ধ করে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক। এরপর জার্মানির বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে পাড়ি। বল নিয়ন্ত্রণ, পাস, ট্যাকল এবং আক্রমণ গড়ার দক্ষতা তাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। খুলে দেয় বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের দরজা। স্পেনের রাজধানীতে গিয়ে তিনি আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন।

বেলিংহাম শুধু একজন মিডফিল্ডার নন, প্রয়োজনে ডিফেন্সে নেমে প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামান, আবার মুহূর্তেই আক্রমণে উঠে গোলের সুযোগ তৈরি করেন। নিজে গোল করেন, কখনো সতীর্থকে দিয়ে করান। তাকে অনেকেই আধুনিক ফুটবলের ‘সম্পূর্ণ মিডফিল্ডার’ বলেন, বিশ্বকাপেও পরিণত বেলিংহামকে দেখছে বিশ্ব। গ্রুপপর্ব থেকেই তিনি ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের প্রাণ। বলের দখল ধরে রাখা, আক্রমণের গতি বাড়ানো এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ তৈরি করা তার অসাধারণ নৈপুণ্য। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মেক্সিকোর বিপক্ষে নিজের সেরা ঝলক দেখান। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে ৩-২ ব্যবধানে জয় এনে দেন। তার দুই গোল। বদলে দিয়েছে ম্যাচের গতিপথ। কঠিন লড়াই পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পেছনে বেলিংহামের অবদান সবচেয়ে বেশি। ম্যাচ শেষে বেলিংহাম বলেন, ‘আমরা জিতেছি, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। শিরোপা জিততে চাই, তাহলে প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের আরও ভালো হয়ে মাঠে নামতে হবে।’ বেলিংহাম বিশ্বাস করেন, প্রতিভা দরজা পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু কঠোর পরিশ্রমই টিকিয়ে রাখে। কোচদের কাছেও তিনি পরিচিত একজন নিবেদিতপ্রাণ ফুটবলার হিসাবে। বিশ্বকাপ এখনো শেষ হয়নি। সামনে আরও কঠিন পথ। কিন্তু এ পর্যন্ত যা দেখিয়েছেন, তাতে বেলিংহাম শুধু ইংল্যান্ডের নন, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত হয়েছেন। তার দৌড়, পাস, গোল যেন বার্তা দেয়-বয়স নয়, সাহস আর সামর্থ্যই একজন ফুটবলারের প্রকৃত পরিচয়।