ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে ছয় দিনের অনুষ্ঠানিকতা শেষ হচ্ছে আজ। তাকে দাফন করা হবে জন্মশহর ইরানের মাশহাদে। শেষ শ্রদ্ধার আনুষ্ঠানিকতার পঞ্চম দিনে তার লাশবাহী কফিন নেওয়া হয় প্রতিবেশী ইরাকে। সেখানে নাজাফ শহরে শোকমিছিল বের হয়। এতে লাখো মানুষ অংশ নেন। এ সময় অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। ইরাকের ঐতিহাসিক এলাকা কারবালায়ও তার কফিন নেওয়ার কথা রয়েছে।
সর্বোচ্চ নেতার দাফন কার্যক্রমকে অনেকটা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে তেহরান। তারা বিশ্বের নানা দেশের প্রতিনিধিদের শেষ শ্রদ্ধার কার্যক্রমে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এতে অংশ নেন ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি। আলী খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে কয়েকটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানও এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন।
আল জাজিরা জানায়, আলী খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে ইরাক সরকার বুধবারকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করে। স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় নাজাফে শোকমিছিল ও আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ইরানের পবিত্র শহর কওমে বিশাল এক শোকমিছিলের পর মঙ্গলবার রাতে নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খামেনির কফিন গ্রহণ করেন ইরাকের কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদরা। এ সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং প্রয়াত নেতার বড় ছেলে মোস্তফা হোসেইনি খামেনি উপস্থিত ছিলেন।
খামেনির কফিন নাজাফের রাস্তা দিয়ে ইমাম আলীর মাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। ইমাম আলী ছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জামাতা। নাজাফ থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক জ্যাক হিউসন জানান, মক্কা ও মদিনার পর শিয়া ইসলামে নাজাফ হলো তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রীর সমাগম এ শহরের জন্য স্বাভাবিক ঘটনা; আর গুরুত্বের দিক থেকে এবারের আয়োজনটিও তাদেরই কাতারে পড়ছে বলে মনে হচ্ছে।’ হিউসন আরও বলেন, নাজাফে ঠিক কতজন শোকাহত মানুষ সমবেত হয়েছেন, তার সঠিক সংখ্যা কারও জানা নেই। তবে এটা স্পষ্ট যে এখানে লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি রয়েছে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পুরো আনুষ্ঠানিকতায় তার তিন ছেলে উপস্থিত হলেও ছিলেন না নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ইরানের কর্মকর্তারা জানান, যে বিমান হামলায় তার বাবা নিহত হয়েছিলেন, ওই হামলায় তিনিও আহত হন; তবে তার আঘাত কতটা গুরুতর, তা এখনো স্পষ্ট নয়। নাজাফের পর খামেনির কফিন প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তরে কারবালায় নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে আরেকটি শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে, যা শেষ হবে শিয়াদের তৃতীয় ইমাম হোসেন এবং তার ভাই আব্বাসের মাজারে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি শিয়া-প্রধান এ দুই দেশের মধ্যকার আধ্যাত্মিক বন্ধনের প্রশংসা করেন। কানি বলেন, ইরাক সরকার ও জনগণের নেওয়া এ ঐতিহাসিক আয়োজনের ব্যাপক প্রস্তুতি ইরাক ও ইরান-উভয় দেশের দুই মহান জাতির মধ্যকার আধ্যাত্মিক বন্ধনের গভীরতাকে পুরো বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে।’ নাজাফে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় ভ্রমণ করা ইরাকি নাগরিক মোহাম্মদ আল-বায়াতি বলেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ক্ষমতার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন, তার শেষকৃত্যানুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগটি হাতছাড়া করা যায় না। গত শনিবার থেকে ইরান আলী খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে ছয়দিনব্যাপী অনুষ্ঠানিকতা শুরু করে; এর মধ্যে একটি দিন প্রতিবেশী ইরাকের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে।







