ইরানের আবারও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় এ ঘটনা ঘটল। সপ্তাহ দুয়েক আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সইয়ের পর এটিই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ঘটনা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। এরই মধ্যে দুই সপ্তাহ আগে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তির জন্য সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে আলোচনাও শুরু হয়েছে। তবে স্মারকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যেসব সমঝোতা হয়েছে, তা লঙ্ঘনের অভিযোগ দুই পক্ষই একাধিকবার একে-অপরের বিরুদ্ধে এনেছে।
যেমন গতকাল শনিবারের হামলা। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, ওই দিন ভোরে পানামার পতাকাবাহী একটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এরপর তারা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আজ রোববার ভোরে জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, ‘ইরানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নতুন হামলাগুলো ছিল ‘বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ক্রমাগত আগ্রাসনের সরাসরি জবাব’। এতে ইরানের সামরিক নজরদারি, যোগাযোগ, আকাশ প্রতিরক্ষা, ড্রোন সংরক্ষণ ও মাইন স্থাপন-সংক্রান্ত স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
শনিবার হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার আগে বৃহস্পতিবার একটি মালবাহী জাহাজে হামলা হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের সমুদ্র নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, শনিবার আক্রান্ত হওয়া ট্যাংকারটির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। তবে জাহাজটির নাবিকরা সবাই নিরাপদে আছেন।
ওই হামলার পেছনে ইরান জড়িত কি না, তা সরাসরি জানায়নি তেহরান। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটি অনুমোদন দেয়নি এমন একটি জলপথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় অজ্ঞাত কয়েকটি জাহাজকে সতর্ক করতে ‘গুলি ছুড়েছে’ তারা। এর আগে শুক্রবারও সিরিক বন্দরের তাহেরুই ঘাট এলাকায় হামলা হয়েছিল বলে জানায় তেহরান।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় চাপে যুদ্ধবিরতিইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তেহরান। এতে শত শত জাহাজ উপসাগরীয় এলাকায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। বিশ্বজুড়ে সৃষ্টি হয় অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা। তবে সমঝোতা স্মারকে সইয়ের পর জাহাজগুলো প্রণালিটি দিয়ে বের হওয়া শুরু করে। এতে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়া কমতে শুরু করে তেলের দাম।
যুক্তরাষ্ট্র চায় জাহাজগুলো হরমুজের দক্ষিণ দিকে ওমান উপকূল দিয়ে চলাচল করুক। এটি নিয়ে ইরানের তীব্র আপত্তি রয়েছে। তেহরানের চাওয়া হলো, তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা উত্তর দিকের পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল করবে। এতে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে জাহাজগুলো। ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি শনিবার বলেই রেখেছিলেন, হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত যেসব নির্দেশনা ইরান দিয়েছে, সেগুলোর যেকোনো লঙ্ঘন কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের ভুলের মাশুল গুনছে যুক্তরাষ্ট্র, কৌশলগত হার মানছেন মার্কিনরা






