ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে, যা তেলের সরবরাহে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৫২ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৮৬ সেন্ট বা ১.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৮.৮৮ ডলারে ওঠে।একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচারের দাম ৮৫ সেন্ট বা ১.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৪.৩৭ ডলারে পৌঁছায়।মার্কিন সেনাবাহিনী বুধবার ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালায়। এর আগে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, ইরানের উপকূলজুড়ে প্রায় ৯০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুতকেন্দ্র, নৌ সক্ষমতা এবং সামরিক রসদ-সংক্রান্ত অবকাঠামো।বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইএনজির বিশ্লেষকেরা বলেন, 'ইরানের ওপর নতুন মার্কিন হামলার পর বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে তেলের দাম বেড়েছে। সর্বশেষ এই উত্তেজনা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি টিকে থাকার আশা দুর্বল করে দিয়েছে।'বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান আইজির বিশ্লেষক টনি সাইকামোর রয়টার্সকে বলেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে আপাতত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আরও সতর্ক অবস্থান নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ বড় কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এর আগে বুধবার (৯ জুলাই) ইরান দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের আগের হামলার জবাবে তারা বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।