হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা তথা নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে মতানৈক্যের জেরে চলতি মাসে ফের সংঘাতে জড়িয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফা বিমান হামলায় ৫৩ জন নিহত এবং ৫৯২ জন আহত হয়েছেন। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও তথ্যকেন্দ্রের প্রধান হোসেইন কারমানপুর এ তথ্য জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি।
হোসেইন কারমানপুর বলেন, এই পরিসংখ্যান ২৭ জুন থেকে ২২ জুলাই স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সময়ের। নিহতদের মধ্যে ৬ জন নারী এবং ১৮ বছরের কম বয়সী ৩ জন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৩৯ জন নারী ও ২৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
কারমানপুর আরও জানান, আহতদের মধ্যে ৫৩৫ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। এছাড়া ৩৬ জন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ২১ জনকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।
এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।
হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ইস্যুতে সপ্তাহখানেক ফের সংঘাতে জড়িয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভিন্ন শহর ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান।
ইরানের লিগাল মেডিসিন অর্গানাইজেশন সংস্থাটির প্রধান আব্বাস মাসজেদি জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী রয়েছেন। তিনি বলেন, এখনো চারটি মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
কেএম








