ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবে শারজাহ তাইয়্যেবা স্কুলে মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৩৪ জনের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কয়েক মাস ধরে উদ্ধার অভিযান ও ডিএনএ পরীক্ষার পর তাদের দেহাবশেষ শনাক্ত করা হয়।
বুধবার (২২ জুলাই) জানাজা অনুষ্ঠানে নিহতদের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় কর্মকর্তারা এবং হরমুজগান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বহু মানুষ অংশ নেন। নিহতদের দেহাবশেষ শহরের মধ্য দিয়ে শোক মিছিলের মাধ্যমে বহন করা হয়। শোক মিছিলটি ইমাম খোমেনি স্কয়ার থেকে শুরু হয়ে মিনাব শহিদ কবরস্থানে গিয়ে শেষ হয়, যেখানে দেহাবশেষগুলো দাফন করা হয়।
হরমুজগান প্রদেশের শহিদ ও প্রবীণ বিষয়ক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আতাউল্লাহ নাভাকি জানান, চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা উদ্ধার অভিযানে স্কুলের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩৪ জন নিহতের ৬৮টি দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, শনাক্তকরণের জন্য উদ্ধার করা দেহাবশেষগুলো বিশেষায়িত জেনেটিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর এবং তাদের পরিবারের সম্মতির ভিত্তিতে, দেহাবশেষগুলো আগে দাফন করা মরদেহগুলোর সঙ্গে পুনরায় একত্রিত করার জন্য প্রস্তুত করা হয়।
আরও পড়ুন>>
ইরান যুদ্ধে শেষ মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, স্পষ্ট হচ্ছে সামরিক দুর্বলতা
এক দেশ, ৩১ যুদ্ধক্ষেত্র: ইরানের ‘মোজাইক ডিফেন্স’ কৌশল
হরমুজগান প্রদেশের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও সামাজিক বিষয়ক উপ-গভর্নর আহমাদ নাফিসি বলেন, এই অনুষ্ঠান শুধু একটি জানাজা ছিল না; এটি ছিল এমন এক জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত স্মৃতির পুনঃনিশ্চিতকরণ। এসব পরিবার স্কুলে নিরপরাধ শিশুদের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কখনো ভুলবে না।
তিনি বলেন, মিনাবের মানুষ বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত হয়েছে। তারা সেই শত্রুদের প্রতি একটি জোরালো জবাব দিয়েছে। নিহতদের মৃত্যু এই অঞ্চলে ইসলামি বিপ্লবের শিকড়কে আরও শক্তিশালী করেছে।
শারজাহ তাইয়্যেবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের প্রথম দিন শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিমান হামলায় ওই স্কুলে থাকা ১৬৮ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্কুলকর্মী নিহত হন।
সূত্র: ইরনা
কেএম








