সুমিষ্ট রঙিন রসালো ফল জাম উৎপাদনে প্রসিদ্ধ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা। পাকা জামের বেচাকেনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলার মুলাডুলি আমবাগান কাঁচামালের বাজার। এ বাজারে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার জাম বেচাকেনা হয় । এখানকার জাম স্বাদে ও গুনে সুখ্যাতির জন্য ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা মুলাডুলি আড়তে জাম কিনতে আসেন।
ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি, ফরিদপুর, চাঁদপুর, দাশুড়িয়া, বাঘহাছলা, গোয়ালবাথান, আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাড়ির আঙিনা ও সড়কের পাশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জামের গাছ। এসব গাছে জাম পাকার পর গাছ মালিকরা মুলাডুলি বাজারে নিয়ে আসে।
জাম স্বল্পকালীন ফল হওয়ায় বাজার স্থায়ী হয় সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ দিন। স্থানীয়ভাবে পরিচিত হাঁড়ি জাম, ঠাকি জাম ও ক্ষুদে জাম এখানে পাওয়া যায়। আকারভেদে বর্তমানে পাইকারি বাজারে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ ট্রাক জাম সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। জাম বিক্রি করে এ অঞ্চলের কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতা বেড়েছে।
সরেজমিনে মুলাডুলিতে গিয়ে দেখা যায়, প্লাস্টিক ঝুড়িতে জাম সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কুচকুচে কালো জামে সূর্যের আলো পড়ে চকচক করছে। যা দেখে যে কোন মানুষের ভালো লাগবে। দুরদুরান্ত থেকে অটোবাইক, ভ্যান, মটর সাইকেল ও সাইকেলে করে গাছ মালিক ও ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা এ আড়তে জাম নিয়ে আসছে। পাইকাররা এসব জাম দর কষাকষি করে কিনে নিচ্ছেন।
মুলাডুলি আমবাগান কাঁচামালের বাজারে জাম বিক্রি করতে আসা আরজ আলী বলেন, ‘আমাদের বাড়ির আঙিনায় ৪টি জাম গাছ আছে। প্রত্যেক জাম গাছে প্রচুর ফলন হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২৮ হাজার টাকার জাম বিক্রি করেছি। আরও কয়েক হাজার টাকার বিক্রি করা যাবে। প্রতি কেজি জাম ৯০ টাকা দরে বিক্রি করেছি।এবার বাজারদরও ভালো।’
মুলাডুলি পাইকারী হাটের ব্যবসায়ীরা জানান, এখানকার জাম অত্যন্ত সুস্বাদু ও আকারে বড়। তাই রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে এ জামের চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিনই জাম দেশের বিভিন্ন ফলের দোকানে পাঠানো হচ্ছে। কৃষকরাও ভাল দাম পাচ্ছেন আমরাও লাভবান হচ্ছি।’
কাঁচামাল বাজারের আড়তদার আমিনুর রহমান বাবু বলেন, ‘ঈশ্বরদীসহ প্রায় ৭/৮টি উপজেলার মানুষ মুলাডুলি আড়তে জাম বিক্রি করতে আসে। বাণিজ্যিকভাবে এখানে জামের চাষ না হলেও বাড়ির আঙিনা ও রাস্তার পাশে লাগানো গাছ থেকে এসব জাম তারা সংগ্রহ করে। ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা জাম কিনে বাজারজাত করে থাকে।’তিনি আরও জানান, প্রতি বছর প্রায় আড়াই থেকে তিন কোটি জাম এখানে বেচাকেনা হয়। প্রতিবছরই জামের এ আড়তে সরবরাহ বাড়ছে।
মুলাডুলি আমবাগান কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঈশ্বরদীর জামের সুখ্যাতি দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। জাম বিক্রি করে এ অঞ্চলের মানুষ ব্যাপক লাভবান হচ্ছে। আশাকরি একসময় ঈশ্বরদীতে বাণিজ্যিকভাবে জাম চাষ শুরু হবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মমিন বলেন, ‘ঈশ্বরদীর মাটি জাম চাষের জন্য খুব উপযোগী। এখানকার জাম বেশ সুস্বাদু। এ উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে জাম চাষ শুরু না হলেও প্রচুর জামের গাছ রয়েছে এখানে। মুলাডুলি আমবাগান কাঁচামালের বাজারে ব্যাপক জাম বেচাকেনা হয়। এখানকার কৃষকদের বাণিজ্যিকভাবে জাম বাগান করতে উৎসাহিত করা হবে। আগামীতে জাম ঈশ্বরদীর একটি সম্ভাবনাময় ফল হয়ে উঠবে।
শেখ মহসীন/এফএ/জেআইএম








