সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার প্রকল্প 'পদ্মা ব্যারেজ' বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৬টি জেলার ১৬৩টি উপজেলা সরাসরি উপকৃত হবে এবং দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ এর সুফল ভোগ করবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।আজ রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট দেশের মানুষের কল্যাণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হয়েছে। মাত্র চার মাসের মধ্যে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার একটি সাহসী ও জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়ন করায় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, ইমাম-পুরোহিতদের ভাতা এবং খালকাটা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষা খাতের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে শিক্ষার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।পানিসম্পদ খাতের অগ্রাধিকার তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ফারাক্কা বাঁধ, পদ্মা ব্যারেজ এবং তিস্তা ব্যারেজ এই তিনটি বিষয় বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। ফারাক্কার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে সরকারের টেকনিক্যাল কমিটি কাজ করছে।"তিনি আরও জানান, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলা উপকৃত হবে। আর প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ২৬টি জেলার ১৬৩টি উপজেলা এবং দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ এর সুফল ভোগ করবে। পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের অন্তত পাঁচটি জেলার কৃষি, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।বক্তব্যের শেষ অংশে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ পঞ্চগড়কে একটি আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সাথে আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নের লক্ষ্যে পঞ্চগড় বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং দেবীগঞ্জে একটি এগ্রো জোন প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।








