ইতালিতে বৈধভাবে পাঠানোর কথা বলে এক তরুণকে কেনিয়ার একটি মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে তোতা মাল (৬২) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১০।

র‍্যাব বলছে, গ্রেপ্তার তোতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাসে ওই তরুণের পরিবারের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা নেওয়ার পর তাঁকে শ্রীলঙ্কা ও ভারত হয়ে কেনিয়ায় পাচার করা হয়। পরে তাঁকে ছাড়িয়ে আনতে পরিবারের কাছে আরও পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তিন লাখ টাকা পরিশোধ করলেও দেশে ফিরতে পারেননি ওই তরুণ।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মীরহাজির বাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তোতা মালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাজেহারচর এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি।

র‍্যাব জানায়, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার উত্তরাইল এলাকার বাসিন্দা মো. তামিমকে বৈধভাবে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা নেয় তোতা মালসহ একটি দালাল চক্র। ওই দিনই তাঁকে ইতালিতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু ইতালির বদলে প্রথমে তামিমকে শ্রীলঙ্কায় নেওয়া হয়। সেখানে কিছুদিন আটকে রাখার পর তাঁকে অবৈধভাবে ভারতে পাচার করা হয়। পরে ভারত থেকে কেনিয়ায় নিয়ে একটি মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে র‍্যাবের দাবি।

র‍্যাবের ভাষ্য, কেনিয়ায় নেওয়ার পর তামিমকে মুক্ত করার শর্তে তাঁর পরিবারের কাছে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে পরিবার বাধ্য হয়ে তিন লাখ টাকা পরিশোধ করলেও তামিম দেশে ফিরতে পারেননি।

এ ঘটনায় গত ১৫ মার্চ তামিমের মা মাদারীপুরের শিবচর থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র‍্যাব-১০।

র‍্যাব-১০-এর গণমাধ্যম শাখার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার তপন সরকার বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তোতা মালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য শিবচর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‍্যাব জানিয়েছে, মানব পাচারসহ এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সংস্থাটি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে আসছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।