পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভ করেন রেহেনা বেগম উর্মি নামের এক নারী। তার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) তেঁতুলিয়া থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলাটি করেন তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসনের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মনোয়ার হোসেন। মামলায় ওই নারীসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়।
এর আগে সোমবার (২৯ জুন) তেঁতুলিয়া উপজেলার পরিষদ চত্বরে ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে ছেলের গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে লাইভ করেন ওই নারী। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই নারী জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগও দেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া উপজেলার মাগুরা এলাকার বাসিন্দা রেহেনা বেগম উর্মি তার ছেলের কর্মসংস্থানের জন্য তেঁতুলিয়ার ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরুর কাছে গেলে তিনি তাকে গ্রাম পুলিশে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে চাকরি দিতে তিন লাখ টাকা ঘুস দাবি করেন। ছেলের কর্মসংস্থানের আশায় ধারদেনা করে ওই নারী গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথম দফায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন ইউএনওকে। চাকরির পর বাকি টাকা পরিশোধ করার কথা। টাকা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে চাকরি তিনি দিতে গড়িমসি করেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
এরই মধ্যে ২৪ জুন ইউএনও আফরোজ শাহীন খসরুকে তেঁতুলিয়া থেকে তারাগঞ্জ উপজেলায় বদলি করে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়। এরপর উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে ফেসবুক লাইভে এই অভিযোগ করেন ওই নারী।
লাইভে ওই নারী বলেন, ‘আমাকে জেলে দেন, ফাঁসি দেন কিন্তু আমার টাকাটা ফেরত দেন। আমি গরিব মানুষ। আমি টাকার চিন্তায় ঘুমাতে পারি না। আপনি হয় চাকরি দেন, না হয় টাকা ফেরত দেন।’
ইউএনওর বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পর তাকে মোবাইল কোর্টে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগী নারী রেহেনা বেগম।
এদিকে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৩০ জুন) তেঁতুলিয়ায় উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ স্থানীয়রা অংশ নেন।।
মামলার বিষয়ে জানতে বাদী মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহিন খসরু বলেন, আমি ওই নারীকে চিনি না। তার সঙ্গে কোনো দিন দেখাও হয়নি। যে নিয়োগের কথা বলা হচ্ছে সেটি বাতিল হয়েছে। সেখানে তার ছেলের নামে কোনো আবেদনও নেই। এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলেও দাবি করেন ইউএনও।
পুলিশ সুপার আবু সাইম বলেন, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান। আসামিদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়াও চলছে।
সফিকুল আলম/এসআর/জেআইএম







