ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় শহর সুমি-এর কেন্দ্রস্থলে রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। একই সঙ্গে রুশ হামলায় ঝাপোরঝিয়া শহরে অন্তত দুইজন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনজুড়ে রুশ হামলায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
শনিবার (৪ জুলাই) ইউক্রেনের সুমি আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ওলেহ হরিহোরভ এর বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইউক্রেনিফর্ম সংবাদ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে জাপোরিঝিয়ার হামলার তথ্য টেলিগ্রামে নিশ্চিত করছেন আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেদোরোভ।
ফেদোরভ বলেন, জাপোরিঝিয়ায় রাশিয়ার হামলায় আহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রাণহানিও ঘটেছে।
প্রাথমিকভাবে তিনি জানিয়েছিলেন, শহরের বিভিন্ন স্থানে রুশ বাহিনীর হামলায় ১১ বছর বয়সি এক শিশুসহ সাতজন আহত হয়েছেন। পরে উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য হালনাগাদ হলে নিশ্চিত করা হয় যে, হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং মোট ২১ জন আহত হয়েছেন।
সুমি অঞ্চলের হরিহোরভ জানান, হামলাটি একটি বহুতল আবাসিক ভবন, একটি দোকান এবং ব্যস্ত সড়কসংলগ্ন এলাকায় আঘাত হানে। ওই সময় সেখানে অনেক মানুষ, এমনকি শিশুরাও উপস্থিত ছিল।
প্রাথমিকভাবে তিনি জানান, ১৩ বছর বয়সি এক শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং চিকিৎসকরা আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন। পরে তিনি আরও জানান, গুরুতর আহত একজন হাসপাতালে মারা যাওয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিন প্রাপ্তবয়স্ক ও এক শিশুসহ মোট চারজনে দাঁড়িয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে অর্ধেকের অবস্থা গুরুতর এবং কয়েকজনের অস্ত্রোপচার চলছে। আহতদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে।
হরিহোরভ বলেন, সময়মতো চিকিৎসাসেবা দেওয়ায় অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। হামলার পরপরই যারা উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসাসেবায় অংশ নিয়েছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
২০২২ সাল থেকে ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে আছে রাশিয়া। এতে দুই দেশেরই বহু সেনা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তবে, সম্প্রতি পুতিন জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে রাশিয়া। অ্যাংকোরেজ ও ইস্তাম্বুল চুক্তি এবং বর্তমান বাস্তবতার ভিত্তিতে এই আলোচনা হতে হবে।
গত বছর ইস্তাম্বুলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পুনরায় শুরু হওয়া শান্তি আলোচনার তিনটি দফা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৫ সালের ১৬ মে, ২ জুন এবং ২৩ জুলাই অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে বড় আকারের বন্দি বিনিময় এবং সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির জন্য উভয় পক্ষের অবস্থান তুলে ধরে খসড়া স্মারক তৈরি হয়।
কেএম








