তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে শুরু হয়েছে পশ্চিমা সামরিক জোট নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা ন্যাটোর ৩৬তম শীর্ষ সম্মেলন। দুদিনব্যাপী এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশের নেতারা। এবারের সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি, ইউক্রেন সংকট এবং শিল্প উৎপাদন ও উদ্ভাবন মূল আলোচ্য বিষয় ঠিক করা হয়েছে।

সম্মেলনে একাধিক বক্তব্যে ট্রাম্প ইউরোপের নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করেছেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের ফাঁটলের বিষয়টি দৃশ্যমান হয়। ইরান যুদ্ধে পাশে না দাঁড়ানোয় তিনি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সমালোচনা করেছেন। ইসরাইলের কঠোর সমালোচক স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন। এর আগে তিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কঠোর সমালোচনা করেন।

মঙ্গলবার ন্যাটো সম্মেলনের প্রথম দিনেই এক পুরোনো বিতর্ক নতুন করে উসকে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানান, আধাস্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের এমন অবস্থানে ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের দূরত্ব বহাল থাকছে। বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে দেশগুলোর প্রত্যাশিত সমর্থন না পাওয়ায় ক্ষোভ ঝেড়েছেন ট্রাম্প। খবর দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্সের। ট্রাম্পের এ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর আঙ্কারায় পাল্টা জবাব দিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। তিনি বলেন, মিত্ররা ডেনিশ সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাবে এবং গ্রিনল্যান্ড যে বিক্রির জন্য নয়, তা মেনে নেবে বলেই তিনি আশা করেন।

স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের : ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি তার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ন্যাটোতে স্পেনকে ‘ভয়ানক অংশীদার’ বলে অভিহিত করেন।