এবারের বিশ্বকাপে স্পেনকে শিরোপার অন্যতম বড় দাবিদার ভাবা হয়েছিল তাদের সৃষ্টিশীল মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের কারণে। কিন্তু ফেভারিটের মতো তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে আসার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে রক্ষণভাগ। পাঁচ ম্যাচে নয় গোল করার বিপরীতে এখনো কোনো গোল হজম করেনি ইউরো চ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপে টানা সবচেয়ে বেশি সময় জাল অক্ষত রাখার রেকর্ড গড়েছেন স্পেনের শেষ প্রহরী উনাই সিমোন। এখানেও কৃতিত্ব দিতে হবে রক্ষণের চার সেনানী পাও কুবার্সি, পেদ্রো পেরো, আইমেরিক লাপোর্ত ও মার্ক কুকুরেল্লাকে। প্রতিপক্ষের প্রায় ৮০ শতাংশ আক্রমণ আটকে যায় এই চারজনের রক্ষণ-বাঁধে। ফলে পাঁচ ম্যাচে সিমোনকে মাত্র ছয়টি সেভ করতে হয়েছে। স্পেনের জমাট রক্ষণে ফাটল ধরানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ এবার বেলজিয়ামের সামনে। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় লসঅ্যাঞ্জেলেসে শেষ আটের ইউরোপিয়ান ডার্বিতে লামিনে ইয়ামালের স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে ‘ডার্ক হর্স’ বেলজিয়াম।

প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর ক্রমেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে স্পেন। পাঁচ ম্যাচে মাত্র একটি গোল করলেও জাদুকরী ফুটবলে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন লা রোহাদের ১৮ বছর বয়সি তরুণ সেনাপতি ইয়ামাল। তাকে আটকাতে প্রতিপক্ষ ব্যস্ত থাকায় যে সুযোগ তৈরি হয়, তা কাজে লাগিয়ে মিকেল ওইয়ারসাবাল করেছেন চার গোল। পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে বদলি হিসাবে নেমে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোলটি করেন মিকেল মেরিনো। যেভাবেই হোক একটি গোল করতে পারলেই যেন স্পেনের জয় নিশ্চিত। এই ফর্মুলাতেই তারা ২০১০ বিশ্বকাপ জিতেছিল। এবার সেমিতে ওঠার লড়াইয়ে তাদের সঙ্গী টানা ৩৫ ম্যাচে অপরাজিত থাকার আত্মবিশ্বাস।

বেলজিয়াম পরীক্ষার আগে নিজেদের শক্তির জায়গা নিয়ে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার দানি ওলমো বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি দল, যেখানে সবাই আক্রমণ করে এবং সবাই রক্ষণ সামলায়। ইয়ামালকে দেখুন। সে গোল করছে, অ্যাসিস্ট করছে। প্রয়োজনে আবার রক্ষণেও নেমে এসে সহায়তা করছে। এটাই আমাদের বড় শক্তি। আমাদের রক্ষণভাগও দুর্দান্ত।’

শুরুর মলিনতা ঝেড়ে বেলজিয়ামও ফিরেছে স্বরূপে। শেষ ষোলোতে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে তারা উড়িয়ে দিয়েছে ৪-১ গোলে। সোনালি প্রজন্মের দুই নক্ষত্র কেভিন ডি ব্রুইনা ও রোমেলু লুকাকুকে বেঞ্চে রেখে কেটেলার, হান্সিকের মতো তরুণদের কাজে লাগাচ্ছেন কোচ রুডি গার্সিয়া। শেষ দিকে বদলি হিসাবে নেমে লুকাকু দেখাচ্ছেন বুড়ো হাড়ের ভেলকি। দারুণ কার্যকর এই রেসিপিতে কী স্পেনকে হারানো সম্ভব? উত্তরটা দিলেন স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে খেলা বেলজিয়ামের তারকা গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া, ‘স্পেন অবশ্যই ফেভারিট। তবে সব প্রতিযোগিতায় বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে। আমি মনে করি, বিশ্বকাপে বিস্ময় উপহার দেওয়া দলগুলোর একটি হতে পারি আমরা। ইউরো চ্যাম্পিয়নদের বিদায় করে দিতে পারা অবশ্যই বিশাল অঘটন হবে। আমাদের সেটা ঘটানোর আত্মবিশ্বাস আছে।’