জাদুশিল্পকে পারফর্মিং আর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনপ্রিয় মাধ্যম হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। একই সঙ্গে জাদুশিল্পীদের কল্যাণে আর্থিক সহায়তা এবং নিয়মিত জাদু প্রদর্শনীর আয়োজনেরও আশ্বাস দেন তিনি।

বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘জাদুশিল্পী ঐক্য সংস্থা’ আয়োজিত ‘অভিষেক ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, জাদুশিল্প দেশের একটি প্রাচীন ও প্রতিষ্ঠিত শিল্পমাধ্যম হলেও দীর্ঘদিন ধরে জাদুশিল্পী ও সাপুড়েরা অবহেলিত রয়েছেন। মানুষের সংগ্রামের সঙ্গী এবং সুস্থ বিনোদনের উৎস এই শিল্পকে আর অবহেলায় রাখা যাবে না। তাই আজ থেকে জাদুশিল্পকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

তিনি আরও বলেন, জাদুশিল্প দেশের সৃজনশীল অর্থনীতি বা ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’র একটি শক্তিশালী মাধ্যম। এটি বিনোদনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করে। নতুন অর্থবছরে জাদুশিল্পীদের কল্যাণে বাজেট থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতি মাসে অন্তত একবার শিল্পকলা একাডেমিতে জাদু প্রদর্শনীর আয়োজনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মতি রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা ও সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জাদুকর জুয়েল আইচ। তিনি দেশে জাদুশিল্পের প্রসারে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে স্বাগত জানান।

স্বাগত বক্তব্য দেন জাদুশিল্পী ঐক্য সংস্থার সভাপতি শাহীন শাহ। তিনি দেশীয় জাদুশিল্পের বর্তমান অবস্থা ও শিল্পীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

এছাড়া, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেজাউদ্দিন স্টালিন, বিপাশা আইচ, সাজেদুর রহমান মুনীম, মো. সাইফুল ইসলাম এবং রোকসানা আখতার রিনি।

অভিষেক অনুষ্ঠান শেষে দেশের শীর্ষস্থানীয় ও উদীয়মান নারী-পুরুষ জাদুশিল্পীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য জাদু প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা করতালির মাধ্যমে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী সপরিবারে উপস্থিত থেকে পুরো অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং শিল্পীদের উৎসাহ দেন।

আরএমএম/এএমএ