গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনব্যাপী ‘সঙ্গীত উৎসব ২০২৬’। ২৪ ও ২৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ উৎসবের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল রবীন্দ্র-নজরুল।উৎসবের সভাপতি ও সঙ্গীত উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সঙ্গীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অণিমা রায়।উৎসবের প্রথম দিনের প্রধান অতিথি ছিলেন নিতাই রায় চৌধুরী। দ্বিতীয় দিনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ববি হাজ্জাজ।দুই দিনব্যাপী আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন, অধ্যাপক ড. তাহমিনা আখতার এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনসহ দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।উদ্বোধনী বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, “কাজী নজরুল ইসলামকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে আবদ্ধ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ছিলেন শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর। তাঁর দ্রোহ ও সৃষ্টিকর্ম যুগে যুগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষকে অনুপ্রাণিত করবে।” একইসঙ্গে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবিক দর্শন এবং গ্রামীণ উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথাও তুলে ধরেন।মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে তরুণ শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই নয়, মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। উৎসবে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ফাহিম হোসেন চৌধুরী, শ্যামা রহমান, ফেরদৌস আরা, ইয়াকুব আলী খান এবং টিটু মুন্সীসহ আরও অনেক শিল্পী। কবিতা আবৃত্তি করেন জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও নৃত্যশিল্পীরাও পরিবেশনায় অংশ নেন। উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ইফফাত আরা দেওয়ান-কে গুণীজন সংবর্ধনা প্রদান।
সমাপনী বক্তব্যে ড. অণিমা রায় বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালির সংস্কৃতি ও চেতনার দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র। নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের সাহিত্য ও সংগীতকে পৌঁছে দেওয়া এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ চর্চার ক্ষেত্র তৈরি করতেই এ আয়োজন। ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।” সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সঙ্গীতচর্চা এবং রবীন্দ্র-নজরুল ভাবধারার প্রচারে এ আয়োজন শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।








