জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদে জালিয়াতির মাধ্যমে যোগদান করতে এসে ধরা পড়েছেন চার ব্যক্তি। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়েছে।

চাকরিতে যোগ দিতে এসে ধরা পড়ার পর তারা মৌখিক পরীক্ষায় নিজেরা অংশ নেননি এবং তাদের হয়ে অন্য ব্যক্তি পরীক্ষা দিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মানসুর হোসেন রোববার (১৯ জুলাই) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন

জালিয়াতি করে সরকারি চাকরি, ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তরা হলেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মো. আ. আলিম (রোল: ১৯০০৪৪৮৯), সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মো. আলী হায়দার (রোল: ১৯০১৬০৯১), কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মো. রাসেল রানা লিটন (রোল: ১৯০১১০৯৩) এবং গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মো. মাসুদ ফকির (রোল: ১৯০১৯২৫৭)।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত ৫ মে সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৩) ও অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অফিস সহায়ক পদে ২৩ হাজার ৭০৯ জন আবেদন করেন। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন ৯ হাজার ৩১৮ জন। সেখান থেকে ১০৭ জনকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। ২৪, ২৫ ও ২৮ জুন মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন

জাবি গ্রন্থাগার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ

মৌখিক পরীক্ষা শেষে গত ৬ জুলাই ২০ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে তাদের ১৯ জুলাই সকাল ১০টায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদান করতে বলা হয়।

কর্মকর্তারা জানান, যোগদানের জন্য উপস্থিত হলে চারজনের চেহারার সঙ্গে মৌখিক পরীক্ষার সময় তোলা ছবি ও সংরক্ষিত তথ্যের মিল পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে চারজনই স্বীকার করেন যে, তারা নিজেরা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তি মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। পরে তারা এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্যও দেন।

আরও পড়ুন

পরিবার পরিকল্পনা / জালিয়াতি করে নিয়োগ, আদালতে ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

তারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, চাকরি পাওয়ার আশায় বিভিন্ন ব্যক্তিকে অর্থ দিয়েছেন। কেউ আগে অর্থ দিয়েছেন, আবার কেউ চাকরিতে যোগদানের পর অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি বা চক্রের সম্পৃক্ততাও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আরএমএম/এমএমকে