কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি হলেন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোশাররফ হোসেন। তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন মোবারক হোসেন নামের এক ব্যক্তি। পাশাপাশি তিনি তার জমির মালিকানা নিশ্চিতকরণ, ন্যায়বিচার ও নিজের নিরাপত্তা চেয়ে স্থানীয় সংসদ-সদস্যের কাছেও অভিযোগ দিয়েছেন।
মোবারক হোসেন উপজেলার মারুকা ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ ১৪ বছর কুয়েতে কর্মরত ছিলেন। তার অভিযোগ, প্রবাসে থাকা অবস্থায় আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে ওই জামায়াত নেতার ওপর আস্থা রেখে পাঁচ শতাংশ জমি কেনার জন্য তিন লাখ টাকা এবং রেজিস্ট্রি খরচ বাবদ আরও ২৫ হাজার টাকা দেন। জমিটির অবস্থান দাউদকান্দি পৌরসভার পশ্চিম মাইজপাড়া (বলদাখাল) এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে। ২০০১ সালে তিনি ওই টাকা পরিশোধ করেন।
থানায় দেওয়া অভিযোগে মোবারক উল্লেখ করেন, গত ২০ জুন সকালে তিনি অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে জমির রেজিস্ট্রির কথা বললে তাকে গালিগালাজ করা হয়। রেজিস্ট্রি হবে না বলে জানিয়ে মারধর, প্রাণনাশ ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়।
এর আগে গত ২৫ মার্চ কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের সংসদ-সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন মোবারক। ভুক্তভোগীর দাবি, টাকা নেওয়ার পর ওই জামায়াত নেতা বারবার জমির রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি। দেশে ফিরে তিনি সেই জমিতে নিজের টাকায় বাড়ি করে পরিবার নিয়ে থাকতে শুরু করেন।
মোবারকের দাবি, ২০১৭ সালে জমিসংক্রান্ত আলোচনার কথা বলে তাকে চিটাগাং রোড এলাকার একটি আইনজীবীর কার্যালয়ে নিয়ে একটি কাগজে সই করানো হয়। একপর্যায়ে নানা হুমকির মুখে তিনি ওই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। বর্তমানে মতলবের এক ব্যক্তি ওই জমির মালিক দাবি করে ভাড়া তুলে খাচ্ছেন।
২০০৯ সালে তাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠানোর কথা বলে ওই জামায়াত নেতা তার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নেন বলেও অভিযোগ করেছেন মোবারক।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বেপারী বলেন, ‘আমি ২০০৮ সাল থেকে এই বলদাখাল এলাকায় বসবাস করছি। মোবারককে ওই বাড়িতে থাকতে দেখেছি। পরে তিনি কী কারণে বাড়ি ছেড়েছেন তা জানি না।’
অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াত নেতা মোশাররফ হোসেন দাবি করেন, ‘মোবারক বিভিন্ন সময়ে সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো আমার কাছে বিনিয়োগ করেন। আমি তাকে লাভসহ মোট ১২ লাখ টাকা দিয়েছি। জমি তাকে দেব না।’ ভুক্তভোগী মোবারক হোসেন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।








