ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের খাজরানা এলাকায় ১০০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতাল ঘিরে এক অদ্ভুত প্রশাসনিক অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। কারণ, গত ৬ বছর ধরে হাসপাতালটি কেবল কাগজে-কলমেই পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অথচ বাস্তবে সেখানে একটি ইটও বসানো হয়নি, এমনকি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য জমিও এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, ছয় বছর আগে মধ্যপ্রদেশ সরকার খাজরানায় একটি আধুনিক সিভিল হাসপাতাল স্থাপনের ঘোষণা দেয়। কিন্তু উপযুক্ত জমি খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেমে থাকেনি। হাসপাতালটির জন্য চিকিৎসক, নার্স ও প্যারামেডিক্যাল কর্মী মিলিয়ে মোট ৮৭টি পদ অনুমোদন দেওয়া হয়, যদিও হাসপাতালটির বাস্তব অস্তিত্বই ছিল না।

পরবর্তী বছরগুলোতে এসব পদের জন্য নিয়মিত বদলি ও পদায়নও করা হয়েছে। বর্তমানে ওই অনুমোদিত পদে নিয়োগ পাওয়া প্রায় ৮০ জন কর্মী ইন্দোরের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ পি সি সেঠি হাসপাতাল, কেউ হুকুমচাঁদ হাসপাতাল, আবার কেউ শহরের বিভিন্ন সঞ্জীবনী ক্লিনিকে কর্মরত।

এ বিষয়ে মধ্যপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী রাজেন্দ্র শুক্লা প্রকল্পটির পটভূমি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘প্রথমে এখানে একটি নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র (পিএইচসি) পরিচালিত হতো। পরে সেটিকে ৫০ শয্যার সিভিল হাসপাতালে উন্নীত করা হয় এবং পরবর্তীতে সেটিকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কিন্তু উপযুক্ত সরকারি জমি না পাওয়ায় নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত অনুমোদিত জনবলকে অন্যান্য সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জমি অনুসন্ধানের কাজও চলমান রয়েছে।’

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল সরকারকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছে এবং একে চরম অবহেলার উদাহরণ বলে অভিযোগ তুলেছে। মধ্যপ্রদেশের সাবেক মন্ত্রী সজ্জন সিং ভার্মা প্রশ্ন তুলেছেন, যে ভবনের অস্তিত্বই নেই, সেই ভবনের জন্য বছরের পর বছর কীভাবে নিয়োগ, বদলি ও পদায়ন চলতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করব এবং সরকারের কাছে জবাব চাইব।’ একই সঙ্গে তিনি ঘটনাটির উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবিও জানান।

এদিকে ইন্দোরের প্রধান চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (সিএমএইচও) ডা. মাধব হাসানি নির্মাণ বিলম্বের পেছনের বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘শহরের সীমানার মধ্যে বড় আকারের সরকারি জমি খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। এ কারণেই হাসপাতাল নির্মাণে বিলম্ব হয়েছে। আমরা নার্সিং ও প্যারামেডিক্যাল কর্মীদের সঞ্জীবনী ক্লিনিক এবং অন্যান্য হাসপাতালে সংযুক্ত করেছি, যাতে তাঁদের দক্ষতা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়।’